ভোটের মুখে বড় ধাক্কা কমিশনের! ৮০০ তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতারিতে স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে চিহ্নিত করা তৃণমূল কংগ্রেসের ৮০০ কর্মীকে আগাম গ্রেফতার করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার এই মামলার শুনানিতে আদালত নির্বাচন কমিশনের জারি করা নজরদারি ও গ্রেফতারির নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। আদালতের এই রায়ের ফলে প্রথম দফার ভোটের আগে শাসক দল বড়সড় স্বস্তি পেল বলে মনে করা হচ্ছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সুরক্ষা
প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, সতর্কতামূলক পদক্ষেপের নাম করে আগামী ৩১ জুন পর্যন্ত এই তালিকার কাউকেই গ্রেফতার করা যাবে না। তবে আদালত এটিও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কেউ যদি কোনও নতুন অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বাধা নেই। মূলত আগাম বা প্রতিরোধমূলক গ্রেফতারির পথটিই বর্তমানে বন্ধ করল আদালত।
কমিশনের অবস্থান ও আইনি লড়াই
নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষক এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছিলেন, তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা ভোটারদের ভয় দেখানো বা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর কাজে সক্রিয়ভাবে জড়িত। নির্দিষ্ট থানা এলাকা ধরে এই নামের তালিকা তৈরি করে ডিআইজি-কে নজরদারি ও প্রয়োজনে আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই তালিকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন এবং দাবি করেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কর্মীদের আটক করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপের মূল কারণ ছিল অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা। তবে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের ফলে কমিশনের কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনায় সাময়িক ভাটা পড়ল। এই রায়ের প্রভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার ও ভোটের ময়দানে রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনের সমীকরণকে প্রভাবিত করবে।
এক ঝলকে
- কমিশনের চিহ্নিত ৮০০ তৃণমূল কর্মীকে আগামী ৩১ জুন পর্যন্ত আগাম গ্রেফতার করা যাবে না।
- কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ কমিশনের নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে।
- ভোটারদের ভয় দেখানো ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগে এই তালিকা তৈরি করেছিল কমিশন।
- নতুন করে কোনও অপরাধমূলক কাজ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পথ খোলা রেখেছে আদালত।