সীমান্তের কাঁটাতারের জটে হাইকোর্টের নজিরবিহীন জরিমানা, পকেট থেকে টাকা দেবেন খোদ যুগ্ম অধিকর্তা!

সীমান্তের কাঁটাতারের জটে হাইকোর্টের নজিরবিহীন জরিমানা, পকেট থেকে টাকা দেবেন খোদ যুগ্ম অধিকর্তা!

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে রাজ্যের দীর্ঘসূত্রতায় চরম উষ্মা প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। কেন্দ্রীয় সরকার জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করার পরেও কেন কাজ থমকে রয়েছে, তা নিয়ে রাজ্যের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এদিন সাফ জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই কাজে কোনোভাবেই ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। আদালতের নির্দেশ অমান্য ও আসাম্পূর্ণ রিপোর্ট পেশ করায় ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের যুগ্ম অধিকর্তাকে ব্যক্তিগতভাবে ২৫ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের ক্ষোভ ও জরিমানার কারণ

সীমান্তের ১৮১ কিলোমিটার অংশে বেড়া দেওয়া বাকি থাকলেও মাত্র ৮ কিলোমিটারের হিসাব পেশ করায় আদালতের রোষের মুখে পড়ে রাজ্য সরকার। গত ২৭ জানুয়ারি আদালত ১২৮ কিলোমিটার জমির বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও সেই ডেডলাইন মানা হয়নি। উপরন্তু, ৩১ মার্চের মধ্যে জমি হস্তান্তরের সময়সীমা পার হয়ে গেলেও বিএসএফ-এর হাতে জমি তুলে না দেওয়ায় বিষয়টিকে আদালতের অবমাননা হিসেবেই দেখছেন বিচারপতিরা। এই ব্যর্থতার দায়ভার নির্দিষ্ট আধিকারিকের ওপর চাপিয়ে আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, জরিমানার টাকা সরকারি তহবিল থেকে নয় বরং সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে নিজের পকেট থেকে দিতে হবে।

অনুপ্রবেশ রোধ ও জাতীয় নিরাপত্তা

মূলত প্রাক্তন সেনাকর্মী ড. সুব্রত সাহার দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতেই এই কঠোর অবস্থান আদালতের। অভিযোগ উঠেছে, রাজ্যের গাফিলতির কারণে সীমান্তের বড় একটি অংশ উন্মুক্ত থাকায় অনুপ্রবেশ ও পাচার বাড়ছে। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, টাকা দেওয়ার পরেও রাজ্যের গড়িমসিতে কাজ আটকে রয়েছে। এমতাবস্থায় আদালত কড়া বার্তা দিয়েছে যে, এসআইআর বা অন্য কোনো প্রশাসনিক বাহানায় জাতীয় নিরাপত্তার কাজ আর বিলম্বিত করা যাবে না। পরবর্তী শুনানিতে ১২৮ কিলোমিটার জমির প্রতি ইঞ্চির হিসাব ও বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করার চরম নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এক ঝলকে

  • আদালত অবমাননা ও আসাম্পূর্ণ রিপোর্ট পেশের কারণে ভূমি দফতরের যুগ্ম অধিকর্তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা।
  • জরিমানার টাকা সরকারি কোষাগার থেকে নয় বরং আধিকারিককে ব্যক্তিগতভাবে পকেট থেকে দিতে হবে।
  • কেন্দ্রের টাকা সত্ত্বেও ১২৮ কিমি জমির পাট্টা বিএসএফ-কে না দেওয়ায় রাজ্যের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট।
  • আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটির কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *