বাংলায় ১২৯টি আসনে ‘রেড অ্যালার্ট’! প্রতি ৪ জন প্রার্থীর ১ জনের বিরুদ্ধেই কি ফৌজদারি মামলা?

বাংলায় ১২৯টি আসনে ‘রেড অ্যালার্ট’! প্রতি ৪ জন প্রার্থীর ১ জনের বিরুদ্ধেই কি ফৌজদারি মামলা?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর রণঘণ্টা বাজার সাথে সাথেই প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর)। এবারের নির্বাচনে মোট ২৯২০ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রায় ২৩ শতাংশ বা ৬৮৩ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মধ্যে ৫৮৯ জন প্রার্থীই গুরুতর অপরাধের মামলার সঙ্গে যুক্ত। ২০২১ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবার ফৌজদারি মামলা থাকা প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে ১২৯টি আসনকে ‘রেড অ্যালার্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর চিত্র ও অপরাধের ধরন

প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রার্থীদের নামে মামলার হার বেশ চড়া। বিজেপির ২৯৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ২০৮ জনের বিরুদ্ধেই মামলা রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ১১২ জন, কংগ্রেসের ৭৬ জন এবং সিপিআইএম-এর ৯৪ জন প্রার্থী আইনি জটিলতায় রয়েছেন। বিশেষ করে নারীঘটিত অপরাধ ও খুনের মতো গুরুতর ধারায় অভিযুক্ত প্রার্থীর উপস্থিতিও এবার নজর কেড়েছে। ১৯২ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে নারীঘটিত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধও অন্তর্ভুক্ত।

সম্পত্তি ও শিক্ষার খতিয়ান

রাজনীতিতে বিত্তশালীদের দাপট আরও বেড়েছে। এবারের ভোটে ২২ শতাংশ বা ৬২৯ জন প্রার্থী কোটিপতি, যা গত নির্বাচনের চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি। প্রার্থীদের গড় সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.২৭ কোটি টাকায়। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বাধিক ৭২ শতাংশ প্রার্থী কোটিপতি তালিকায় রয়েছেন। অন্যদিকে, শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে মিশ্র চিত্র দেখা গিয়েছে। মোট প্রার্থীর প্রায় ৪৯ শতাংশ স্নাতক বা তার বেশি শিক্ষিত হলেও, ৪৬ শতাংশ প্রার্থীর যোগ্যতা পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির মধ্যে। ১৩ শতাংশ মহিলা প্রার্থীর উপস্থিতি লিঙ্গ বৈষম্যের চিত্রটি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রভাব ও বিশ্লেষণ

প্রার্থীদের এই বিশাল অংশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনমতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ‘রেড অ্যালার্ট’ আসনগুলোতে প্রার্থীদের ভাবমূর্তি সাধারণ ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। একদিকে কোটিপতি প্রার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া এবং অন্যদিকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকা রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক জটিল সমীকরণ তুলে ধরছে।

এক ঝলকে

  • মোট প্রার্থীর ২৩ শতাংশ বা ৬৮৩ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
  • ১২৯টি আসনকে ‘রেড অ্যালার্ট’ ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে অন্তত ৩ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা আছে।
  • কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৯ জনে (২২ শতাংশ)।
  • মাত্র ১৩ শতাংশ বা ৩৮৫ জন মহিলা প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *