প্রচণ্ড গরমে বিপদের কারণ হতে পারে প্যারাসিটামল! জনস্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষ সতর্কবার্তা

প্রচণ্ড গরমে বিপদের কারণ হতে পারে প্যারাসিটামল! জনস্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষ সতর্কবার্তা

তীব্র দাবদাহে অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্যারাসিটামল বা অ্যাসপিরিনের মতো সাধারণ ওষুধ সেবন করা প্রাণঘাতী হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জনস্বাস্থ্য বিভাগ। গরমের কারণে হিট স্ট্রোক বা অতিরিক্ত ক্লান্তিতে কেউ জ্ঞান হারালে সেটিকে সাধারণ জ্বর ভেবে ভুল না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত গ্রীষ্মকালীন রোগের প্রকোপ বাড়ায় সাধারণ মানুষ ঘরে থাকা ওষুধ খেয়ে রোগ নিরাময়ের চেষ্টা করেন, যা শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ও শীতলীকরণ প্রক্রিয়ায় চরম ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

কেন সাধারণ ওষুধ ঝুঁকিপূর্ণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, হিট স্ট্রোক কোনো সাধারণ জ্বর নয় যে ওষুধ খেলেই সেরে যাবে। জ্বরের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র শরীরকে তপ্ত করে, কিন্তু হিট স্ট্রোকে বাইরের তীব্র তাপের কারণে শরীরের নিজস্ব কুলিং সিস্টেম বা শীতলীকরণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। যেহেতু প্যারাসিটামল মস্তিষ্কের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা কমায়, তাই বাহ্যিক তাপের কারণে সৃষ্ট অসুস্থতায় এটি কোনো কাজ করে না। বরং এই অবস্থায় ওষুধ সেবন করলে লিভারে রক্ত সঞ্চালন কমে গিয়ে লিভার ফেইলিউর হওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে।

হিট স্ট্রোক ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ

তীব্র গরমে জলশূন্যতার কারণে কিডনির কার্যক্ষমতা এমনিতেই হ্রাস পায়, সেই মুহূর্তে ব্যথানাশক বা জ্বর কমানোর ওষুধ হিতে বিপরীত হতে পারে। বিশেষ করে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ রক্তকে পাতলা করে দেয়, যার ফলে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্তক্ষরণ শুরু হওয়ার আশঙ্কা থাকে। চিকিৎসকরা বলছেন, ইঞ্জিনের তাপমাত্রা বাড়লে যেমন জল ঢেলে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, হিট স্ট্রোকের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনই ওষুধের চেয়ে বাহ্যিক শীতলীকরণ বেশি কার্যকর।

জরুরি প্রতিকার

আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে পাখা বা এসির বাতাসে রাখতে হবে। বরফ বা ঠান্ডা জল দিয়ে সারা শরীর মোছানো এবং ঘাড় ও বগলের নিচে ভেজা কাপড় রাখা জরুরি। জনস্বাস্থ্য বিভাগের মতে, হিট স্ট্রোক ভেতর থেকে আসা কোনো জ্বর নয়, বরং বাইরের তাপের প্রভাব; তাই এখানে ওষুধের বদলে বাহ্যিক পরিচর্যাই জীবন বাঁচাতে পারে।

এক ঝলকে

  • হিট স্ট্রোক বা অতিরিক্ত গরমে অসুস্থতায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্যারাসিটামল সেবন নিষিদ্ধ।
  • এই ওষুধ সেবনে লিভার ফেইলিউর, কিডনি বিকল এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি তৈরি হয়।
  • হিট স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ওষুধের চেয়ে শরীর ঠান্ডা করার বাহ্যিক পদ্ধতি বেশি কার্যকর।
  • অসুস্থ ব্যক্তিকে দ্রুত ঠান্ডা ও বাতাসযুক্ত স্থানে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *