রাতে ঘুমিয়েছিলেন পাকিস্তানে, সকালে উঠে দেখলেন ভারত! এক রাতের ব্যবধানে দেশ বদলে যাওয়ার অবিশ্বাস্য কাহিনী

লাদাখের নুব্রা ভ্যালিতে অবস্থিত তুতুক গ্রামের ইতিহাস যেকোনো রোমাঞ্চকর চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতে এই গ্রামের বাসিন্দারা যখন ঘুমাতে যান, তখন তারা ছিলেন পাকিস্তানের নাগরিক। কিন্তু পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তারা জানতে পারেন, রাতারাতি তাদের গ্রামটি ভারতের অংশ হয়ে গিয়েছে। মূলত ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর অকুতোভয় অভিযানের ফলেই এই নাটকীয় ভৌগোলিক পরিবর্তন ঘটে।
মেজর রিনচেনের বীরত্ব ও গ্রাম জয়
তৎকালীন ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘লাদাখ স্কাউটস’ মেজর চেওয়াং রিনচেনের নেতৃত্বে তুতুক অভিমুখে অগ্রসর হয়। পাকিস্তানি সৈন্যরা রাতের অন্ধকারে পালিয়ে গেলে কোনো রক্তপাত ছাড়াই গ্রামটি ভারতীয় নিয়ন্ত্রণে আসে। পরদিন সকালে ভীত-সন্ত্রস্ত গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করে মেজর রিনচেন ঘোষণা করেন যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের নিরাপত্তা দেবে এবং এখন থেকে তারা ভারতের নাগরিক। তুতুকের পাশাপাশি তিয়াগশি, চালুনকা ও থাং গ্রামটিও একইভাবে ভারতের মানচিত্রে যুক্ত হয়।
সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও বর্তমান তুতুক
তুতুকের বাসিন্দারা মূলত ‘বালতি’ সম্প্রদায়ের মানুষ, যাদের ভাষা ও সংস্কৃতি পাকিস্তানের বালতিস্তান অঞ্চলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। যুদ্ধের আগে এই গ্রামে পাকিস্তানি পাঠ্যক্রম পড়ানো হলেও বর্তমানে তারা গর্বিত ভারতীয় নাগরিক হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেন। এমনকি ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের সময়ও স্থানীয়রা ভারতীয় বাহিনীকে অকুতোভয় সমর্থন জুগিয়েছিলেন। বর্তমানে বিদ্যুৎ বা আধুনিক ইন্টারনেট প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা থাকলেও তুতুক একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
প্রশান্তিময় শ্যোক নদীর তীরে অবস্থিত এই গ্রামের অর্থনীতি মূলত খুবানি (এপ্রিকট) চাষ এবং হাতে বোনা পশমি পোশাকের ওপর নির্ভরশীল। কয়েক দশক আগের সেই রাতারাতি সীমানা বদলের ঘটনা তুতুককে আজ এক অনন্য ঐতিহাসিক মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছে।
এক ঝলকে
- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতে তুতুক গ্রামটি পাকিস্তান থেকে ভারতের নিয়ন্ত্রণে আসে।
- মেজর চেওয়াং রিনচেনের নেতৃত্বে কোনো গোলাগুলি ছাড়াই গ্রামটি দখল করে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
- প্রায় ৮০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা উদ্ধার করা হয়, যার বাসিন্দারা বালতি সংস্কৃতির অনুসারী।
- বর্তমানে তুতুক লাদাখের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র এবং উন্নত মানের খুবানি উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত।