বেঙ্গালুরুতে বন্ধ কোহলির ‘one8 Commune’, ব্র্যান্ড নাম প্রত্যাহারের পরই কি বড় ধাক্কা?

ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার বিরাট কোহলির জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘ওয়ান-এইট’ (one8) এবং তার অংশীদারিত্বে পরিচালিত বেঙ্গালুরুর ‘ওয়ান-এইট কমিউন’ রেস্টুরেন্টটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। শহরের চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের কাছে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে শুরু হওয়া এই অভিজাত রেস্টুরেন্টটি এখন কার্যত জনশূন্য। আইনি জটিলতা, ব্যবসায়িক মন্দা এবং খোদ কোহলির ব্র্যান্ড প্রত্যাহারের মতো একের পর এক সংকটের মুখে পড়ে অবশেষে এই পরিণতি বরণ করতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে।
নিরাপত্তা ত্রুটি ও কোহলির ব্র্যান্ড প্রত্যাহার
রেস্টুরেন্টটি বন্ধ হওয়ার মূল প্রক্রিয়া শুরু হয় গত বছর থেকে। অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে স্থানীয় পৌরসভা (BBMP) থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে নোটিশ পাঠানো হয়। সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় নিজের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন কোহলি। তিনি অবিলম্বে রেস্টুরেন্ট থেকে নিজের ‘ওয়ান-এইট’ ব্র্যান্ডের নাম সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। জনপ্রিয় এই ক্রিকেটারের নাম ও ব্র্যান্ড সরে যাওয়ার সাথে সাথেই প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক সংখ্যায় ব্যাপক ধস নামে।
ভাড়া বিবাদ ও চূড়ান্ত আর্থিক সংকট
ব্র্যান্ড ইমেজ হারানোর ফলে ব্যবসায়িক ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বেড়ে যায় যে, ভবন মালিকের বকেয়া ভাড়া ও কর্মীদের বেতন পরিশোধ করা আসাম্ভব হয়ে পড়ে। লক্ষাধিক টাকার বকেয়া ভাড়ার দায়ে ভবন মালিক আদালতের শরণাপন্ন হলে আইনি আদেশে রেস্টুরেন্টটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। যদিও পরবর্তীকালে মালিকপক্ষ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ (Stay Order) সংগ্রহ করেছে, কিন্তু চরম আর্থিক সংকটের কারণে বর্তমানে পুনরায় রেস্টুরেন্ট চালুর মতো অবস্থা নেই।
বিনিয়োগকারীদের মতে, বিরাট কোহলির তারকা দ্যুতিই ছিল এই রেস্টুরেন্টের সাফল্যের মূল ভিত্তি। সেই ব্র্যান্ড নাম হারিয়ে যাওয়ায় এবং নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগে জর্জরিত হয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এক ঝলকে
- বেঙ্গালুরুর অভিজাত ‘ওয়ান-এইট কমিউন’ রেস্টুরেন্টটি স্থায়ীভাবে বন্ধ।
- নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ বিধি লঙ্ঘনের নোটিশ পাওয়ার পর কোহলি তার ব্র্যান্ড নাম প্রত্যাহার করেন।
- বকেয়া ভাড়া ও কর্মীদের বেতন দিতে না পারায় আদালতের নির্দেশে এটি বন্ধ করা হয়েছে।
- আইনি স্থগিতাদেশ থাকলেও চরম আর্থিক সংকটে রেস্টুরেন্টটি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা ক্ষীণ।