‘সাঁজোয়া গাড়ি বনাম জনতা, দেখি কার শক্তি বেশি’, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে বিজেপি-কে চ্যালেঞ্জ মমতার!

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই রাজপথ থেকে অলিগলি মুড়ে ফেলা হয়েছে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা বলয়ে। বিশেষ করে রাজ্যজুড়ে মোতায়েন করা সিআরপিএফ-এর সাঁজোয়া যান এবং বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর ২৪ পরগনার এক জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাতে এবং নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন বিভাগকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
গণতন্ত্র বনাম শক্তির আস্ফালন
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রায় দুই লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানকে রাজ্যে নিয়ে আসা হয়েছে, যা নির্বাচনের ইতিহাসে নজিরবিহীন। একে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা এবং ভীতি প্রদর্শনের কৌশল হিসেবে দেখছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, নির্বাচন হওয়া উচিত গণতন্ত্রের উৎসব, কোনো পেশিশক্তি প্রদর্শনের জায়গা নয়। তিনি সাফ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে জানান, সাঁজোয়া যান নাকি সাধারণ মানুষের জনমত—কার শক্তি বেশি, তা আগামীর ফলাফলই প্রমাণ করবে।
পুলিশের ভূমিকা ও এনআরসি আতঙ্ক
কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আইএএস ও আইপিএস অফিসারদের পক্ষপাতহীনভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় পুলিশও বিজেপির মদতপুষ্ট হয়ে কাজ করছে। এছাড়া ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া এবং এনআরসি ইস্যুকে সামনে এনে তিনি ভোটারদের সতর্ক করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বড় অংশের মানুষকে দেশছাড়া করার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
এক ঝলকে
- নির্বাচনের নিরাপত্তায় রাজ্যে প্রায় দুই লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে।
- কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ভোটারদের ভয় দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ১০০০ জন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতারের তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন।
- পুলিশের একাংশের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ এবং এনআরসি আতঙ্কের বিষয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।