আজীবন নিষিদ্ধ ধূমপান! ২০০৮-এর পর জন্মানো শিশুদের জন্য ‘স্মোক-ফ্রি’ আইন আনছে ব্রিটেন

আগামী প্রজন্মের জীবন থেকে চিরতরে মুছে যাবে তামাকের কালো ধোঁয়া। ব্রিটেনের সংসদে সম্প্রতি পাস হওয়া ঐতিহাসিক ‘টোব্যাকো অ্যান্ড ভেপস বিল’ সেই পথই প্রশস্ত করল। এই বৈপ্লবিক আইনের আওতায় ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্মগ্রহণকারী কোনো নাগরিক আজীবন বৈধভাবে তামাকজাত পণ্য কিনতে পারবেন না। বর্তমানে যাদের বয়স ১৭ বছর বা তার কম, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরেও তারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবেন।
ধূমপানমুক্ত প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্য
জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এই আইনটিকে ব্রিটেনের আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন এই নীতি অনুযায়ী, তামাক কেনার ন্যূনতম বয়স প্রতি বছর বাড়তে থাকবে, যাতে তরুণ প্রজন্ম কখনোই আইনিভাবে ধূমপানে অভ্যস্ত হতে না পারে। ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্যারনেস মেরন একে ‘এক প্রজন্মের সেরা স্বাস্থ্যসেবা হস্তক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর ফলে দেশটিতে অকাল মৃত্যুর হার কমার পাশাপাশি জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপর বাড়তি চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তামাক ও ভেপিংয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ
শুধু সাধারণ সিগারেট নয়, বরং ই-সিগরেট বা ভেপিংয়ের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় লাগাম টানতেও নতুন আইনে কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। স্কুল এবং হাসপাতালের আশেপাশে ধূমপান নিষিদ্ধ এলাকার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া শিশুদের আকর্ষণ করে এমন ফ্লেভার বা প্যাকেজিংয়ের ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো নিকোটিনের আসক্তি থেকে তরুণদের দূরে রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি সম্পূর্ণ ধূমপানমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা।
যদিও এই পদক্ষেপটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং চোরাবাজারি বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করছেন, তবে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় এটি বিপুল জনসমর্থন পেয়েছে। রাজকীয় অনুমোদনের পরেই এই আইনটি পূর্ণাঙ্গ কার্যকর হবে, যা ব্রিটেনকে বিশ্বের অন্যতম কঠোর তামাকবিরোধী দেশে পরিণত করবে।
এক ঝলকে
- ১ জানুয়ারি ২০০৯-এর পরে জন্ম নেওয়া ব্রিটিশদের জন্য তামাক কেনা আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ।
- তরুণদের মধ্যে আসক্তি কমাতে ভেপিং ও ই-সিগারেটের বিজ্ঞাপন এবং ফ্লেভারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ।
- প্রতি বছর ধূমপানের ন্যূনতম আইনি বয়স বাড়তে থাকবে যাতে নতুন কেউ এই অভ্যাস শুরু করতে না পারে।
- জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং অকাল মৃত্যু প্রতিরোধের লক্ষ্যেই এই যুগান্তকারী আইন প্রণয়ন।