ছাপ্পা রুখতে মাস্টারস্ট্রোক কমিশনের! এবার কে ভোট দেবেন আর কে নয়, শেষ কথা বলবেন BLO

ছাপ্পা রুখতে মাস্টারস্ট্রোক কমিশনের! এবার কে ভোট দেবেন আর কে নয়, শেষ কথা বলবেন BLO

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জালিয়াতি ও ছাপ্পা ভোট রুখতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে এবার থেকে তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ ‘ভোটার সহায়তা বুথ’, যেখানে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও। এই কর্মকর্তাদের হাতেই দেওয়া হয়েছে চূড়ান্ত ক্ষমতা; কোনো ভোটার বুথের লাইনে দাঁড়াতে পারবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখন থেকে বিএলও-রাই নেবেন।

শনাক্তকরণে বিএলও-দের বিশেষ ভূমিকা

কমিশনের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে বিএলও-দের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা। ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করায় এলাকার ভোটারদের ব্যক্তিগতভাবে চেনেন। সহায়তা কেন্দ্রে বিএলও-দের কাছে ভোটার তালিকার একটি কপি থাকবে, যা দেখে তাঁরা পরিচয়পত্র যাচাই করবেন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ভোটারের হাতে আগে থেকে কোনো কালির দাগ রয়েছে কি না, তাও তাঁরা খতিয়ে দেখবেন। বিএলও-রা সন্তুষ্ট হলেই কেবল একজন ভোটার মূল বুথের লাইনে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও প্রভাব

এই নয়া ব্যবস্থায় বিএলও-দের সহায়তার জন্য বুথেই মোতায়েন থাকবেন দুইজন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। যদি কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা জাল ভোটার ধরা পড়েন, তবে বিএলও সরাসরি তাঁকে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে পারবেন। মূলত রিগিং বন্ধ করতে এবং প্রকৃত ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতেই ওয়েবকাস্টিং ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি এই অতিরিক্ত স্তর যুক্ত করেছে কমিশন। এর ফলে ভুয়া ভোট দেওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • ছাপ্পা ভোট রুখতে এবার বিএলও-রাই ভোটারদের শনাক্ত করে বুথে প্রবেশের অনুমতি দেবেন।
  • ভোটার তালিকায় নাম ও ছবির মিল এবং হাতে কালির দাগ আছে কি না তা বিএলও-রা পরীক্ষা করবেন।
  • প্রতিটি সহায়তা কেন্দ্রে বিএলও-দের নিরাপত্তায় দুইজন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন থাকবে।
  • অনিয়ম ধরা পড়লে ওই ব্যক্তিকে সরাসরি আটক করার ক্ষমতাও থাকছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হাতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *