কিলোর দরে মিলছে Zara-H&M! দিল্লির এই বাজারে ওজন করে বিকোচ্ছে নামী ব্র্যান্ডের পোশাক

দিল্লির নামী দামী শপিং মল বা অভিজাত বিপণিতে যে ব্র্যান্ডের পোশাক হাজার হাজার টাকায় বিক্রি হয়, সেই একই ব্র্যান্ডের পোশাক এখন মিলছে ওজনের দরে। অবিশ্বাস্য মনে হলেও ভারতের রাজধানী দিল্লির কিছু বিশেষ বাজারে এখন সবজি বা ফলের মতো কেজি মেপে বিক্রি হচ্ছে জারা কিংবা এইচএন্ডএম-এর মতো নামী ব্র্যান্ডের সব ট্রেন্ডি পোশাক। মূলত মধ্যবিত্ত এবং ফ্যাশন সচেতন তরুণ প্রজন্মের কাছে এই বাজারগুলো এখন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ হয়ে উঠেছে।
নামমাত্র মূল্যে ব্র্যান্ডের সমাহার
দিল্লির অশোক বিহার ও শাহদারা সংলগ্ন এলাকায় এই বিশেষ বাজারগুলোর অবস্থান। এখানে পোশাক কোনো নির্দিষ্ট পিস বা একক হিসেবে নয়, বরং ওজনে বিক্রি হয়। ধরা যাক, এক কেজি কাপড়ের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে; সেক্ষেত্রে ওই ওজনের মধ্যে যতগুলো টি-শার্ট বা ডেনিম আসবে, তার সবটুকুই গ্রাহক পাবেন ওই নামমাত্র মূল্যে। ফলে একটি দামী জ্যাকেট বা জিন্স গ্রাহকের পকেটে পড়ছে মাত্র ২০০-৩০০ টাকার বিনিময়ে।
রপ্তানি উদ্বৃত্ত পণ্যের বিশাল বাজার
এই অবিশ্বাস্য সস্তায় পোশাক পাওয়ার মূল কারণ হলো ‘এক্সপোর্ট সারপ্লাস’ বা রপ্তানি উদ্বৃত্ত পণ্য। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর জন্য তৈরি করা পোশাকের মধ্যে সামান্য ত্রুটি থাকলে বা অর্ডারের অতিরিক্ত তৈরি হলে সেগুলো এই বাজারে চলে আসে। এ ছাড়া দিল্লির খুব কাছেই অবস্থিত জলপথ, যা ‘কাস্ট-অফ ক্যাপিটাল’ হিসেবে পরিচিত, সেখান থেকেও বিপুল পরিমাণ ব্র্যান্ডেড পোশাক তৌল দরে বিক্রির জন্য এই বাজারগুলোতে সরবরাহ করা হয়।
সতর্কতা ও বাজার প্রভাব
সাশ্রয়ী মূল্যে ব্র্যান্ডের স্বাদ দিলেও এই বাজারে কেনাকাটার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা জরুরি। এখানে কোনো ট্রায়াল রুম বা ফেরার করার সুযোগ নেই, তাই সঠিক মাপ বুঝে নিতে হয়। এছাড়া অনেক সময় পোশাকে ছোটখাটো ত্রুটি থাকতে পারে, যা খুঁটিয়ে দেখে নেওয়া প্রয়োজন। এই বাজারগুলো জনপ্রিয় হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা যেমন বাড়ছে, তেমনই এটি দিল্লির স্থানীয় অর্থনীতিতে এক নতুন গতিশীলতা তৈরি করেছে।
এক ঝলকে
- দিল্লির অশোক বিহার ও শাহদারা এলাকায় ওজনের হিসেবে ব্র্যান্ডেড পোশাক বিক্রি হচ্ছে।
- জারা, এইচএন্ডএম-এর মতো ব্র্যান্ডের পোশাক প্রতি কেজি মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
- রপ্তানি উদ্বৃত্ত বা সামান্য ত্রুটিপূর্ণ (Export Surplus) পণ্য হওয়ায় এই অবিশ্বাস্য মূল্য হ্রাস সম্ভব হয়েছে।
- সাশ্রয়ী বাজেটে আধুনিক ফ্যাশন স্টাইল বজায় রাখতে মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের কাছে এই বাজার অত্যন্ত আকর্ষণীয়।