‘আমার জীবনে আসা মুসলিম যুবক আমাকে মারধর করে মুখ ফুলিয়ে দিয়েছে, বাদ দেয়নি কোমরও’, বিবাহিত প্রিয়াঙ্কার সাথে ঠিক কী ঘটেছিল?

উত্তর প্রদেশের বিজনোরে প্রিয়াঙ্কা নামে এক বিবাহিত নারীর আর্তনাদ ও গুরুতর অভিযোগের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। হরিয়ানার বাসিন্দা ওই নারী অভিযোগ করেছেন, এক মুসলিম যুবক তাঁর মগজধোলাই (ব্রেনওয়াশ) করে সাজানো সংসার এবং সন্তানদের থেকে তাঁকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরবর্তীকালে নয়ডায় ওই যুবকের সাথে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকাকালীন তাঁর ওপর শুরু হয় অমানবিক শারীরিক নির্যাতন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রিয়াঙ্কার মুখমণ্ডল মারধরের চোটে ফুলে গেছে এবং তিনি যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।
ভয়াল হুমকি ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
নির্যাতিতা নারীর দাবি, অভিযুক্ত যুবক তাঁকে কেবল মারধরই করছে না, বরং প্রাণনাশের হুমকিও দিচ্ছে। প্রিয়াঙ্কা অভিযোগ করেছেন, যুবকটি তাঁকে টুকরো টুকরো করে কেটে ব্রিফকেসে ভরে রাখার ভয় দেখাচ্ছে। গত দুই দিন ধরে তাঁকে অনাহারে রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান। বিজনোর পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত নয়ডায় হওয়ায় সেখানে ইতিমধ্যে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ সক্রিয় হয়ে ভুক্তভোগীর সাথে যোগাযোগ করেছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
সামাজিক প্রভাব ও কারণ
প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আবেগীয় প্রলোভন ও মনস্তাত্ত্বিক কারসাজির মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে তাঁর পরিবার থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এই ধরণের ঘটনাগুলো কেবল ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং সামাজিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। যথাযথ আইনি ব্যবস্থার অভাব এবং সম্পর্কের আড়ালে লুকানো অপরাধ প্রবণতাই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে। পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না হলে এমন অপরাধের প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- হরিয়ানার বিবাহিত নারী প্রিয়াঙ্কাকে ব্রেনওয়াশ করে তাঁর স্বামী ও সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্নের অভিযোগ।
- নয়ডায় লিভ-ইন সম্পর্কের নামে বিজনোরের এক যুবকের বিরুদ্ধে পাশবিক শারীরিক নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল।
- ভুক্তভোগীকে হত্যার পর দেহ টুকরো করার হুমকির ঘটনায় নয়ডা ও বিজনোর পুলিশের তদন্ত শুরু।
- গুরুতর আহত অবস্থায় বিচার এবং নিরাপত্তার দাবিতে প্রশাসনের কাছে প্রিয়াঙ্কার আকুতি।