মোবাইল বাঁচাতে গিয়ে মর্মান্তিক প্রাণহানি! এক হাতে ফোন উঁচু করে লড়াই করেও হার মানলেন যুবক

মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২৫ বছর বয়সী যুবক মানক বর্মা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি হৃদয়বিদারক ভিডিওতে দেখা গেছে, উত্তাল নর্মদা নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করেও যুবকটি তাঁর সাধের মোবাইল ফোনটি জলর ওপরে তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। এক হাতে সাঁতার কেটে নিজেকে বাঁচানোর চেয়ে অন্য হাতে ফোনটি শুষ্ক রাখতেই তিনি বেশি ব্যস্ত ছিলেন। দীর্ঘ ১০ মিনিটের লড়াই শেষে ক্লান্তি আর তীব্র স্রোতের টানে গভীর জলতে তলিয়ে যান তিনি।
একটি ফোন এবং দারিদ্র্যের করুণ বাস্তবতা
নিহত মানক বর্মার পরিবারের তথ্যানুযায়ী, কয়েক মাস আগে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি মোবাইল ফোন কিস্তিতে কিনেছিলেন তিনি। প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা কিস্তি জোগাড় করতে তাঁকে হিমশিম খেতে হতো। দরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম এই যুবক দিনমজুরি ছেড়ে সম্প্রতি নদীতে বালু উত্তোলনের কাজ শুরু করেছিলেন। পুলিশের তল্লাশির সময় ধরা পড়ার ভয়ে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন। মূলত কিস্তির টাকায় কেনা সাধের ফোনটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আতঙ্কই শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
পুলিশি তৎপরতা ও গণবিক্ষোভ
ঘটনাটি কেন্দ্র করে জবলপুর-মণ্ডলা সড়কে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের স্বজন ও গ্রামবাসী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ ও খনিজ বিভাগ বড় মাফিয়াদের বদলে সাধারণ গরিব শ্রমিকদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত কড়াকড়ি করছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসডিএম এবং পুলিশের একটি যৌথ দল ওই এলাকায় অভিযান চালিয়েছিল এবং মানক তৃষ্ণা মেটানোর নাম করে পালানোর চেষ্টা করতেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। উত্তেজনা প্রশমনে প্রশাসন নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এক ঝলকে
- জবলপুরের নর্মদা নদীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময় মানক বর্মা নামের এক যুবকের মৃত্যু।
- কিস্তিতে কেনা ১৫ হাজার টাকার মোবাইল ফোন বাঁচাতে এক হাতে সাঁতার কাটার ফলে ক্লান্ত হয়ে ডুবে যান তিনি।
- পরিবারের একমাত্র অবলম্বন মানকের মৃত্যুতে এলাকাবাসীর সড়ক অবরোধ ও পুলিশি হয়রানির অভিযোগ।
- জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারকে ৯ লাখ টাকা আর্থিক সাহায্য ও সরকারি বাসস্থানের আশ্বাস।