সারারাত স্ত্রীকে নির্মমভাবে পেটাল পাষণ্ড স্বামী, জামাইয়ের আবদারে হতবাক সকলে

সারারাত স্ত্রীকে নির্মমভাবে পেটাল পাষণ্ড স্বামী, জামাইয়ের আবদারে হতবাক সকলে

পাঞ্জাবের বাথিন্ডায় এক অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় স্তম্ভিত স্থানীয় জনপদ। ছুটিতে বাড়ি ফিরে মদ্যপ অবস্থায় স্ত্রী পরমজিৎ কৌরকে সারারাত ধরে পৈশাচিক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী নির্মল সিংয়ের বিরুদ্ধে। বিয়ের দীর্ঘ ১১ বছর অতিক্রান্ত হলেও যৌতুকের দাবিতে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই নারী।

যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘস্থায়ী আক্রোশ

ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই যৌতুক নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। পেশায় সেনাসদস্য নির্মল সিং ছুটিতে বাড়ি এলেই স্ত্রী ও শ্বশুরের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেন। ঘটনার রাতে অতিরিক্ত মদ্যপান করে তিনি পুরনো ক্ষোভ উগরে দেন এবং যৌতুকের দাবিতে উন্মত্ত হয়ে পরমজিৎকে পশুর মতো মারধর করতে থাকেন। ভোরের দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘুমিয়ে পড়লে নির্যাতিতা কোনোমতে তার বাবার বাড়িতে খবর দেন।

আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি

ঘটনার খবর পেয়ে পরমজিতের বাবা আত্মা সিং পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন, যার প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযুক্ত নির্মল সিংকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর শারীরিক পরীক্ষা ও এক্স-রে রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে মামলার ধারা আরও কঠোর করা হবে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন থাকায় তার পূর্ণাঙ্গ জবানবন্দি রেকর্ড করার অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন। সুস্থ হওয়ার পর তার বক্তব্য অনুযায়ী তদন্তের পরবর্তী ধাপগুলো নির্ধারিত হবে।

এই ঘটনার প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষিত ও সুশৃঙ্খল পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তির কাছ থেকে এমন নৃশংস আচরণ সামাজিক অস্থিরতা এবং নারীর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি আজও শিকড় গেড়ে বসে আছে।

এক ঝলকে

  • পাঞ্জাবের বাথিন্ডায় মদ্যপ স্বামীর হাতে সারারাত নির্যাতিত হয়েছেন এক নারী।
  • বিয়ের ১১ বছর পর যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে পশুর মতো মারধরের অভিযোগ।
  • অভিযুক্ত স্বামী নির্মল সিংকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
  • গুরুতর আহত গৃহবধূর চিকিৎসার পর আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *