ট্রেনের সিট অদলবদল নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড! মায়ের জন্য নিচের বার্থ চেয়ে সহযাত্রীর অদ্ভুত প্রস্তাবে উত্তাল নেটদুনিয়া

ভারতীয় রেলের সংরক্ষিত কামরায় নিচের বার্থ বা লোয়ার বার্থ নিয়ে যাত্রীদের কাড়াকাড়ি নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে সম্প্রতি রেডিটে ভাইরাল হওয়া একটি ঘটনা ট্রেনের সেই চিরচেনা চিত্রকে ছাপিয়ে অন্য মোড় নিয়েছে। এক তরুণ যাত্রীর দাবি, তাঁর কাছে থাকা নিচের বার্থটি বৃদ্ধা মায়ের জন্য ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে জনৈক ব্যক্তি সরাসরি ৫০০ টাকা দাবি করে বসেন। এই অনভিপ্রেত প্রস্তাবে ওই তরুণ প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে স্থান ত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় গোটা ঘটনাটি প্রকাশ করেন।
ব্যবসায়িক মানসিকতা বনাম সহমর্মিতা
ভাইরাল পোস্টে ওই ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তিনি ৩-এসি কামরায় ভ্রমণ করছিলেন এবং একটি লোয়ার বার্থ পেয়েছিলেন। বৃদ্ধা মায়ের সমস্যা হচ্ছে দাবি করে অন্য এক যাত্রী তাঁর কাছে বার্থটি বদল করার অনুরোধ করেন। কিন্তু এর পরিবর্তে যখন ৫০০ টাকা দাবি করা হয়, তখন মানবিকতার বদলে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যই বড় হয়ে দাঁড়ায়। রেডিট ব্যবহারকারী অবশ্য আত্মপক্ষ সমর্থনে জানিয়েছেন, তিনিও শেষ মুহূর্তে এক দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা খরচ করেই এই সিটটি সংগ্রহ করেছিলেন। ফলে বিনা কারণে তা হাতছাড়া করতে তিনি রাজি ছিলেন না।
গ্রুপ ভ্রমণের জটিলতা ও নেটনাগরিকদের প্রতিক্রিয়া
ঘটনার গভীরে গিয়ে ওই যাত্রী আরও দাবি করেন যে, বৃদ্ধা মহিলাটি ২৪ থেকে ২৫ জনের একটি বড় দলের সাথে ভ্রমণ করছিলেন। তাঁদের দলের অনেকের কাছেই নিচের বার্থ ছিল। নিজেদের মধ্যে সমন্বয় না করে একজন অচেনা যাত্রীকে বিরক্ত করা এবং বিনিময়ে অর্থ দাবি করার বিষয়টি নেটাগরিকদের একটি বড় অংশকে বিস্মিত করেছে। অন্যদিকে, অনেকেই বলছেন ট্রেনের নিচের বার্থ নিয়ে এই ধরনের বিবাদ এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। টিকিট বুকিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং বয়স্কদের জন্য পর্যাপ্ত আসন বরাদ্দ না থাকার কারণেই সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে এই ধরনের মানসিক দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে।
এক ঝলকে
- ট্রেনের এসি কামরায় বয়স্ক মায়ের জন্য নিচের বার্থ চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই যাত্রীর মধ্যে চরম বিবাদ।
- বার্থ অদলবদলের বিনিময়ে ৫০০ টাকা দাবি করায় ক্ষুব্ধ নেটদুনিয়া, পোস্টটি রেডিটে ব্যাপক ভাইরাল।
- অভিযুক্ত যাত্রী নিজের দলের মধ্যে সিট সমন্বয় না করে অপরিচিতর কাছে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছেন বলে অভিযোগ।
- ট্রেনের নিচের বার্থের চাহিদা এবং রেলের বুকিং নীতি নিয়ে পুনরায় শুরু হয়েছে বিতর্ক।