ভোটার স্লিপ পাননি? দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলে মিনিটেই সেরে নিন অনলাইন ডাউনলোড

ভোট উৎসবের আমেজ দেশজুড়ে। নিয়মানুযায়ী বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-দের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ (ভিআইএস) দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের হাতে তা সময়মতো পৌঁছায় না। আপনার ক্ষেত্রেও যদি এমনটা ঘটে থাকে, তবে এখন প্রযুক্তির সহায়তায় ঘরে বসেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। নির্বাচন কমিশনের অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে কয়েক মিনিটেই সংগ্রহ করা যাচ্ছে নিজের ভোটার স্লিপ।
অনলাইনে ডাউনলোডের সহজ পদ্ধতি
ভোটার স্লিপ ডাউনলোডে বড় ভরসা এখন সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের ওয়েবসাইট। পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা ‘CEO West Bengal’ লিখে সার্চ করে সরাসরি দাপ্তরিক পোর্টালে প্রবেশ করতে পারেন। সেখানে ‘Search Your Name in Electoral Roll’ বিকল্পটি বেছে নিয়ে নিজের ভোটার কার্ড বা এপিক (EPIC) নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিলেই বিস্তারিত তথ্য স্ক্রিনে চলে আসবে। এরপর ‘View Details’ থেকে সহজেই ভোটার ইনফরমেশন প্রিন্ট বা ডাউনলোড করা যাবে।
কেন জরুরি এই স্লিপ
এই স্লিপে ভোটারদের নাম, নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্রের ঠিকানা এবং ক্রমিক নম্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে। এর কিউআর (QR) কোড ভোটকেন্দ্রে দ্রুত তথ্য যাচাইয়ে সাহায্য করে। তবে কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই স্লিপ কোনোভাবেই স্বতন্ত্র পরিচয়পত্র হিসেবে গণ্য হবে না। এটি শুধুমাত্র ভোটকেন্দ্র খুঁজে পাওয়ার সহায়ক নথি মাত্র। ভোটার স্লিপ থাকলেও ভোটদানের জন্য সচিত্র পরিচয়পত্র বহন করা আইনত বাধ্যতামূলক।
ভোটার কার্ড না থাকলেও মিলবে ভোটদানের সুযোগ
সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্র না থাকলেও নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছে নির্বাচন কমিশন। আধার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, প্যান কার্ড কিংবা পাসপোর্টের মতো মোট ১২টি বিকল্প পরিচয়পত্রের যেকোনো একটি সঙ্গে থাকলেও বুথে গিয়ে ভোট দেওয়া সম্ভব। ফলে ভোটার স্লিপ না পাওয়া বা ভোটার কার্ড হারিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতেও সাধারণ মানুষ যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই ডিজিটাল ও বিকল্প ব্যবস্থার প্রসার ঘটানো হয়েছে।
এক ঝলকে
- বিএলও বাড়িতে স্লিপ না দিয়ে গেলেও নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ভোটার স্লিপ ডাউনলোড করা সম্ভব।
- ভোটার স্লিপে কিউআর কোড থাকে যা বুথে দ্রুত তথ্য যাচাইয়ে সাহায্য করলেও এটি একক পরিচয়পত্র নয়।
- ভোট দিতে যাওয়ার সময় ভোটার স্লিপের পাশাপাশি অরিজিনাল সচিত্র পরিচয়পত্র সাথে রাখা বাধ্যতামূলক।
- ভোটার কার্ড না থাকলে আধার, প্যান বা ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ মোট ১২টি বিকল্প নথির যেকোনো একটি ব্যবহার করা যাবে।