মাঠের হিরো থেকে জেলের ঘানি! সেক্সটর্শন র্যাকেটে নাম জড়াল মহিলা ক্রিকেটারের, ভাইসহ গ্রেফতার ৩

মুম্বাইয়ের কোলাবায় এক ব্যবসায়ীকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জম্মু-কাশ্মীরের নারী ক্রিকেটার ফারখান্দা খানকে গ্রেপ্তার করেছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। এই দুর্ধর্ষ ‘সেক্সটর্সন’ চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ফারখান্দার ভাই বাজিল খান এবং তাদের সহযোগী ইমতিয়াজ ওয়ানিকেও পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই ব্ল্যাকমেলিংয়ের জালে ফেঁসে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী দফায় দফায় প্রায় ৪২ লাখ টাকা খুইয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
বন্ধুত্বের আড়ালে ভয়ংকর প্রতারণা
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, অনলাইন চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে ফারখান্দার সাথে ওই ব্যবসায়ীর পরিচয় হয় যা ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়। একপর্যায়ে কথোপকথনে অশ্লীলতা যোগ করে সেটির স্ক্রিনশট ও রেকর্ড সংগ্রহ করে চক্রটি। এরপরই শুরু হয় আসল খেলা। ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করতে থাকে ফারখান্দা ও তার সহযোগীরা।
পরিকল্পিত অর্থ আত্মসাৎ
পুলিশ জানিয়েছে, সংগৃহীত অর্থ সরাসরি ইমতিয়াজ ওয়ানি ও ফারখান্দার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হতো। অভিযুক্তরা গত জানুয়ারি ২০২৬-এ শেষ দফায় ৪০ লাখ টাকা আদায় করলে ভুক্তভোগী নিরুপায় হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কেবল এই ব্যবসায়ীই নন বরং আরও অনেককে একইভাবে ফাঁদে ফেলা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় ক্রীড়াঙ্গন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
এক ঝলকে
- জম্মু-কাশ্মীরের ৩০ বছর বয়সী নারী ক্রিকেটার ফারখান্দা খানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশ।
- প্রেমের ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ।
- ২০২৪ সাল থেকে ধাপে ধাপে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রায় ৪২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্র।
- ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে তিন অভিযুক্তকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ।