বিশ্বজুড়ে তেলের খনিতে নাশকতার ছক? রাজস্থানের রিফাইনারিতে অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে নামল NIA!

গত ৫০ দিনে ভারতসহ বিশ্বের ছয়টি দেশের প্রধান তেল শোধনাগারগুলোতে একের পর এক রহস্যময় অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের আবহে এ ধরনের সিরিজ দুর্ঘটনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভারতের রাজস্থানের পাঁচপদ্রায় এইচপিসিএল (HPCL) শোধনাগারে উদ্বোধনের ঠিক আগের দিন ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনাটি সব মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বিষয়টিকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে না দেখে এর পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র বা নাশকতার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)।
তদন্তে নাশকতার ইঙ্গিত
রাজস্থানের পচপদ্রা শোধনাগারটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্বোধন করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগের দিন সোমবার সেখানে আগুন লাগে। যদিও প্রাথমিকভাবে হাইড্রোকার্বন নিঃসরণকে কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, তবে এনআইএ এবং এটিএস-এর গোয়েন্দারা নাশকতার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছেন। সাইবার বিশেষজ্ঞ ও ফরেনসিক দল বর্তমানে শোধনাগারের ক্রুড ডিস্টিলেশন ইউনিট পরীক্ষা করছে। ভারতের অভ্যন্তরে অর্থনীতির মেরুদণ্ড জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করতেই পরিকল্পিতভাবে এই ‘স্ট্রাকচারাল ড্যামেজ’ করা হয়েছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
বিশ্বব্যাপী একই চিত্র
শুধুমাত্র ভারত নয়, গত ১ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে আমেরিকা, মেক্সিকো, ইকুয়েডর, অস্ট্রেলিয়া ও রোমানিয়ার মতো দেশেও বড় বড় শোধনাগারে বিস্ফোরণ ঘটেছে। টেক্সাসের ভ্যালেরো পোর্ট আর্থার এনার্জি রিফাইনারি থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার কোরিও রিফাইনারি—সর্বত্রই ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’র কথা বলা হলেও সমর বিশেষজ্ঞরা একে গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের উত্তেজনার মাঝে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে থাকা দেশগুলোর জ্বালানি কেন্দ্রে এই সিরিজ অগ্নিকাণ্ড বিশ্ব তেল সরবরাহ ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়ার একটি প্যাটার্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- গত ৫০ দিনে ভারত, আমেরিকা ও ইরাকসহ ৬টি দেশের প্রধান তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ড।
- রাজস্থানের পচপদ্রা শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে নেমেছে এনআইএ ও এটিএস।
- মেক্সিকো ও টেক্সাসের রিফাইনারিতে বিস্ফোরণে প্রাণহানি ও উৎপাদন ব্যাহত।
- জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করে বিশ্ব অর্থনীতিকে অস্থির করার ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা।