রেকর্ড ভেঙে বাংলায় গণতন্ত্রের উৎসব, প্রথম দফায় ৯০ শতাংশের বেশি ভোটদানে ইতিহাস

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় রেকর্ড সংখ্যক ভোটদানের সাক্ষী থাকল রাজ্য। অতীতের সব নজির ছাপিয়ে এবার ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা ২০১১ সালের ঐতিহাসিক ভোটকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত ৯টা পর্যন্ত সামগ্রিক ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৪৯ শতাংশ। এই অভূতপূর্ব স্বতঃস্ফূর্ততাকে ‘গণতন্ত্রের সুনামি’ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ভোটের ময়দানে মুর্শিদাবাদ ও কোচবিহারের দাপট
প্রথম দফার এই নির্বাচনে জেলাভিত্তিক লড়াইয়ে শীর্ষে রয়েছে কোচবিহার, যেখানে ৯৫.৩৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে বিধানসভা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে সকলকে চমকে দিয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা। রাজ্যের সর্বোচ্চ ভোট পড়া ১০টি আসনের মধ্যে ৬টিই এই জেলার। বিশেষ করে ভগবানগোলা এবং রঘুনাথগঞ্জে ভোটদানের হার ৯৬ শতাংশ ছাড়িয়ে এক অবিশ্বাস্য পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, পাহাড়ে ভোটের হার সমতলের তুলনায় কিছুটা কম হলেও তা সামগ্রিক রেকর্ডে বড় প্রভাব ফেলেনি।
কমিশনের সন্তোষ ও পরিস্থিতির বিশ্লেষণ
শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোট সম্পন্ন হওয়ায় ভোটার এবং ভোটকর্মীদের বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, উৎসবের মেজাজে মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। তবে এই বিপুল শতাংশের নেপথ্যে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার (এসআইআর প্রক্রিয়া) একটি যান্ত্রিক ভূমিকাও রয়েছে বলে কমিশন স্বীকার করেছে। বিচ্ছিন্ন কিছু অশান্তির খবর পাওয়া গেলেও দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।
এক ঝলকে
- প্রথম দফার নির্বাচনে বাংলায় গড় ভোটদানের হার ৯২ শতাংশ ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে।
- কোচবিহার জেলায় সর্বোচ্চ ৯৫.৩৫ শতাংশ এবং মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলায় ৯৬.৯৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।
- অশান্তির অভিযোগে রাজ্যজুড়ে ৪১ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৫৭০ জনকে আটক করা হয়েছে।
- রেকর্ড ভোটদানের পেছনে ভোটারদের উৎসাহের পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধনী বা এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রভাব রয়েছে।