সাবধান! কম ঘুমোলেই শরীরে থাবা বসাচ্ছে কোলেস্টেরল, অজান্তেই বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি

শরীরের শক্তি সঞ্চয় এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ঘুমের অভাব কেবল ক্লান্তি নয়, বরং শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, ঘুমের ঘাটতি হলে স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসল’ এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন ‘লেপটিন’ ও ‘ঘেরলিন’-এর ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা সরাসরি রক্তে চর্বির মাত্রাকে প্রভাবিত করে।
কোলেস্টেরল বৃদ্ধির নেপথ্যে কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের মান এবং কোলেস্টেরলের স্তরের মধ্যে এক গভীর যোগসূত্র রয়েছে। দীর্ঘক্ষণ জেগে থাকলে শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন তৈরি হয়, যা লিভারের কোলেস্টেরল প্রসেস করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। দিল্লির আর্টেমিস হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, যারা প্রতিদিন ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাদের শরীরে ‘লো-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন’ (LDL) বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। বিপরীতে, যারা নিয়ম মেনে পর্যাপ্ত ঘুমান, তাদের শরীরে ‘হাই-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন’ (HDL) বা ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা সঠিক থাকে।
জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও প্রতিকার
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়, যা পরোক্ষভাবে মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, ধূমপান বা মদ্যপানের প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। এই অভ্যাসগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রতিদিন অন্তত ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘুমের মান উন্নত করতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো, শোয়ার এক ঘণ্টা আগে মোবাইল বা ল্যাপটপের মতো ইলেকট্রনিক গ্যাজেট থেকে দূরে থাকা এবং রাতে ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় পরিহার করা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
এক ঝলকে
- প্রতিদিন ৬ ঘণ্টার কম ঘুম শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বা LDL-এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
- হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং লিভারের কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়া এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ।
- পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে হার্টের অসুখ ও মানসিক চাপের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
- সুস্থ থাকতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস এবং রাতে গ্যাজেটের নীল আলো পরিহার করা জরুরি।