“ভুল করেছি, আমায় ক্ষমা করুন!” জনসভায় হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন বাদুড়িয়ার বিদায়ী বিধায়ক

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট হয়ে গেল। খাতায়-কলমে এখনও শাসক শিবিরের বিধায়ক থাকলেও, টিকিট না পেয়ে সম্প্রতি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন কাজী আব্দুর রহিম। বৃহস্পতিবার এক জনসভায় প্রচারের ময়দানে নেমেই তিনি বিস্ফোরক মন্তব্য করেন এবং নিজের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চান।
ব্যর্থতার দায় স্বীকার ও তৃণমূলকে তোপ
আব্দুর রহিমের দাবি, গত পাঁচ বছর ক্ষমতায় থেকেও তিনি এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ কিছু করতে পারেননি এবং এর জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ পরিবেশই দায়ী। তিনি অভিযোগ করেন, শাসক দল তাঁকে কেবলমাত্র ব্যবহারের জন্য দলে নিয়েছিল এবং সেখানে কাজ করার কোনও স্বাধীনতা ছিল না। গত নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়া সত্ত্বেও মানুষের আশা পূরণ করতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি নিজেকে ‘ভুল পথের পথিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া
তৃণমূল কংগ্রেস এবার বাদুড়িয়া থেকে বুরহানউল মুকাদ্দিনকে প্রার্থী করায় দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে আব্দুর রহিমের। প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি দিল্লিতে গিয়ে কংগ্রেসে যোগ দেন। তাঁর এই দলবদল এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে বেশ প্রভাব ফেলেছে। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব এই ঘটনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁদের মতে, জনসভায় লোক সমাগম না হওয়ায় এবং পরাজয় নিশ্চিত জেনেই এমন মন্তব্য করছেন বিদায়ী বিধায়ক।
এক ঝলকে
টিকিট না পাওয়ায় ক্ষোভ থেকে দলবদল এবং বর্তমান প্রার্থীর জয় নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
বাদুড়িয়ার বিদায়ী বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়াকে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
গত পাঁচ বছরে এলাকার উন্নয়ন করতে না পারার জন্য তৃণমূলের কাজের পরিবেশ ও পরাধীনতাকে দায়ী করেছেন।