ডিএ নিয়ে টালবাহানা আর কত? এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দরবারে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ!

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের রাজ্য বাজেটে ঘোষিত ৪ শতাংশ মহার্ঘভাতা (ডিএ) কার্যকর হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এপ্রিল মাস থেকে এই বর্ধিত ভাতা পাওয়ার কথা থাকলেও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। এমনকি সংশোধিত বেতন বিল প্রক্রিয়াকরণ না হওয়ায় রাজ্য সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং বকেয়া ডিএ-র দাবি আদায়ে এবার সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের হস্তক্ষেপ চাইল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।
আদর্শ আচরণবিধি বনাম সরকারি সদিচ্ছা
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অভিযোগ, রাজ্য সরকার ও শাসকদলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জনসভা ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে যে, নির্বাচন কমিশনের অনুমতি না থাকায় এই ডিএ কার্যকর করা যাচ্ছে না। তবে আন্দোলনকারী সংগঠনটির দাবি, ৪ শতাংশ ডিএ-র ঘোষণা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার অনেক আগেই করা হয়েছিল। ফলে আদর্শ আচরণবিধির অজুহাতে কর্মীদের প্রাপ্য আটকে রাখা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এই বিভ্রান্তি দূর করতেই গত ২১ এপ্রিল অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে প্রয়োজনীয় প্রমাণ ও নথি জমা দিয়েছে সংগঠনটি।
প্রাপ্য আদায়ের লড়াই ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
রাজ্য প্রশাসনের এই বিলম্বের ফলে কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মচারী আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি এবং অর্থ দপ্তরকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নির্বাচনের মুখে ডিএ-র মতো একটি স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে এই আইনি ও প্রশাসনিক টানাপড়েন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়াতে পারে। দ্রুত কোনো সমাধান না মিললে বড়সড় আন্দোলনে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে কর্মচারী সংগঠনগুলি।
এক ঝলকে
- বাজেটে ঘোষিত ৪ শতাংশ ডিএ কার্যকরে সরকারি বিজ্ঞপ্তির অভাবে অনিশ্চয়তা।
- নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ চেয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ডেপুটেশন।
- আদর্শ আচরণবিধির কারণে ডিএ আটকে থাকার সরকারি দাবি নাকচ করেছে আন্দোলনকারীরা।
- দ্রুত নির্দেশিকা জারি করতে এবং অর্থ দপ্তরকে অনুমোদন দিতে কমিশনের কাছে আর্জি।