“৪ মে-র পর সব ফাইল খুলবে বিজেপি সরকার!” জলহাটি থেকে মমতার সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি মোদির

প্রথম দফার নির্বাচন শেষ হতেই বাংলা জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কণ্ঠে। শুক্রবার জলহাটির নির্বাচনী জনসভা থেকে তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ৪ মে-র পর বিজেপি সরকার সব ফাইল খুলে তদন্ত শুরু করবে। প্রতিটি অবিচার ও নৃশংসতার ঘটনার বিচার হবে বলে আশ্বাস দিয়ে তিনি একে ‘মোদির গ্যারান্টি’ হিসেবে অভিহিত করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই হুঙ্কার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
তৃণমূলের বিদায় ঘণ্টা ও নতুন প্রতিশ্রুতি
জলহাটির সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, প্রথম দফার ভোটেই বিজেপির জয়ের ঢেউ নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের বর্তমান অবস্থাকে তিনি নিভন্ত প্রদীপের শিখার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ভোটাররা বিজেপিকে ভোট দিলে সিন্ডিকেট রাজ, বেকারত্ব এবং অনুপ্রবেশের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও কলকাতায় এক বৈঠকে দাবি করেছিলেন, ১৫২টি আসনের মধ্যে ১১০টি আসনেই বিজেপি জয়লাভ করতে চলেছে।
বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রশাসনিক বদল
রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে বিঁধে মোদি জানান, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে আয়ুষ্মান ভারত যোজনা কার্যকর নেই। তবে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করলে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এই প্রকল্প চালু করা হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়াই বিজেপির লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিচারের আশ্বাস ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অভয়ার মা রত্না দেবনাথের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় প্রধানমন্ত্রী মূলত দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের বার্তা দিয়েছেন। কোন কোন নির্দিষ্ট ফাইল খোলা হবে তা স্পষ্ট না করলেও, তিনি সাফ জানান যে প্রতিটি অন্যায়ের হিসাব নেওয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের মাঝপথে এই তদন্তের হুঁশিয়ারি ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলার একটি কৌশল হতে পারে, যা শাসক দলের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
এক ঝলকে
- ৪ মে-র পর সব দুর্নীতির ফাইল খুলে তদন্তের হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
- বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারত যোজনা চালুর প্রতিশ্রুতি।
- সিন্ডিকেট রাজ, বেকারত্ব ও অনুপ্রবেশ থেকে বাংলাকে মুক্ত করার ডাক।
- প্রথম দফার ভোটের পর বাংলায় বিশাল জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ গেরুয়া শিবিরের।