জিমে ভারী ব্যায়ামই ডেকে আনল কাল! যমদূতকে হারিয়ে ছেলেকে ফিরিয়ে আনলেন নার্স মা

মহারাষ্ট্রের নাগপুরে ২৩ বছর বয়সী ওম ভোয়ারের জীবনে জিমের একটি সাধারণ দিন প্রায় চরম ট্র্যাজেডিতে পরিণত হতে চলেছিল। ১০ এপ্রিল জিমে দীর্ঘ সময় ধরে ডেডলিফটসহ বিভিন্ন ভারী ব্যায়াম শেষে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। তবে পেশায় নার্স ওমের মা আরতি ভোয়ার ছেলের পরিস্থিতি দেখে তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারেন যে এটি সাধারণ কোনো অসুস্থতা নয়, বরং স্ট্রোকের লক্ষণ।
চিকিৎসায় সময়ের গুরুত্ব
মায়ের দ্রুত সিদ্ধান্তে ওমকে সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় স্ট্রোকের পরবর্তী প্রথম কয়েক ঘণ্টাকে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বলা হয়, যে সময়ে সঠিক চিকিৎসা শুরু হলে রোগীর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। হাসপাতালের স্ক্যান রিপোর্টে দেখা যায়, ওমের মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা দ্রুত ‘মেকানিক্যাল থ্রম্বেকটমি’ পদ্ধতির মাধ্যমে সেই জমাট রক্ত অপসারণ করেন, যা তাঁকে নিশ্চিত মৃত্যু বা আজীবনের পঙ্গুত্বের হাত থেকে রক্ষা করে।
অতিরিক্ত ব্যায়ামের ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের ক্ষমতার বাইরে গিয়ে বা সঠিক প্রশিক্ষণ ছাড়া ভারী ওজন তোলা রক্তচাপের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা ধমনীতে ব্লকেজ তৈরির ঝুঁকি বাড়ে। ওমের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমই এই সংকটের মূল কারণ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুস্থ হয়ে ওঠার পর গত ২১ এপ্রিল তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
এক ঝলকে
- নাগপুরে জিম করার পর বাড়িতে হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন ২৩ বছর বয়সী যুবক ওম ভোয়ার।
- মায়ের সঠিক সিদ্ধান্ত ও ‘গোল্ডেন আওয়ারে’ হাসপাতালে পৌঁছানোর ফলে তাঁর প্রাণ বাঁচে।
- ‘মেকানিক্যাল থ্রম্বেকটমি’ পদ্ধতির মাধ্যমে তাঁর মস্তিষ্কের জমাট বাঁধা রক্ত সফলভাবে অপসারণ করা হয়।
- চিকিৎসকরা অতিরিক্ত ওজন তোলার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন ও সঠিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।