ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণায় জল ঢালল ইজরায়েল! ‘১০০ শতাংশ শান্তি নেই’, হুঁশিয়ারি রাষ্ট্রদূতের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা বিশ্বজুড়ে শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করলেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনও বেশ জটিল। ট্রাম্প প্রথমে ১০ দিন এবং পরবর্তীতে এই মেয়াদ তিন সপ্তাহ বাড়ানোর কথা জানালেও ইজরায়েলের পক্ষ থেকে একে ‘পূর্ণাঙ্গ’ যুদ্ধবিরতি হিসেবে মেনে নেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রসংঘে ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সাফ জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি আগের চেয়ে উন্নত হলেও তা এখনও ১০০ শতাংশ স্থিতিশীল নয়।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও সংশয়
দীর্ঘ ৩৪ বছর পর আমেরিকা ইজরায়েল ও লেবাননকে আলোচনার টেবিলে বসাতে সক্ষম হয়েছে। হোয়াইট হাউসের বৈঠকে মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছে যে, ইরান যদি হেজবুল্লাকে অর্থায়ন বন্ধ করে, তবেই মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ফিরবে। তবে ইজরায়েলের পক্ষ থেকে লেবানন সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাদের দাবি, হেজবুল্লা যদি রকেট হামলা চালায়, তবে ইজরায়েলও পাল্টা জবাব দিতে বাধ্য হবে। অন্যদিকে, সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লা এই কূটনৈতিক বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে না, যা সংঘাত অবসানের পথে বড় বাধা।
আঞ্চলিক অস্থিরতা ও প্রভাব
এই যুদ্ধবিরতির আলোচনার সমান্তরালে পারস্য উপসাগরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি—এই অভিযোগে ইরান পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। ইরানের দাবি, তাদের জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই জলপথ বন্ধ থাকবে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে একদিকে যেমন লেবানন সীমান্তে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বিশ্ববাজারে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
এক ঝলকে
- ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইজরায়েল জানিয়েছে এই চুক্তি এখনও ১০০ শতাংশ নিশ্চিত নয়।
- দীর্ঘ ৩৪ বছর পর মার্কিন মধ্যস্থতায় ইজরায়েল ও লেবানন আলোচনার টেবিলে বসতে সম্মত হয়েছে।
- হেজবুল্লার আক্রমণ ঠেকাতে ইজরায়েল পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।
- প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ করে দিয়েছে।