মুখের হাড় চুরমার, শরীরের খাঁজে শেষ লড়াইয়ের দাগ! IRS অফিসারের কন্যা খুনে ময়নাতদন্তে নারকীয় রিপোর্ট

মুখের হাড় চুরমার, শরীরের খাঁজে শেষ লড়াইয়ের দাগ! IRS অফিসারের কন্যা খুনে ময়নাতদন্তে নারকীয় রিপোর্ট

দিল্লির এক আইআরএস (IRS) অফিসারের ২২ বছর বয়সি মেয়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার সকালে পরিবারের সদস্যরা যখন জিমে গিয়েছিলেন, তখনই বাড়িতে ঢুকে ওই তরুণীকে নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে, তরুণীর মুখের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছিল এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর ক্ষত ও নীলচে দাগ ছিল। চিকিৎসকদের মতে, নিজের জীবন বাঁচাতে তরুণী শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়েছিলেন।

নির্মম হত্যাকাণ্ড ও লুঠপাটের ছক

তদন্তকারীদের দাবি, পরিবারের প্রাক্তন পরিচারক রাহুল মীনা স্পেয়ার চাবি ব্যবহার করে বাড়িতে ঢুকে প্রথমে ভারী বস্তু দিয়ে তরুণীকে আঘাত করে অচেতন করে দেয়। এরপর মোবাইল চার্জারের তার দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁকে খুন করা হয়। ময়নাতদন্তে ঘাড়ের পেশিতে রক্তক্ষরণ এবং থাইরয়েড কার্টিলেজে ভাঙন ধরা পড়েছে। খুনের পর অভিযুক্ত লকার ভেঙে নগদ টাকা ও গয়না লুঠ করে এবং রক্তমাখা পোশাক বদলে পালিয়ে যায়।

তদন্ত ও অপরাধীর অতীত

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ অভিযুক্ত রাহুল মীনাকে দিল্লির দ্বারকা এলাকার একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, রাহুল আগে ওই বাড়িতে কাজ করত কিন্তু পরে তাকে ছাড়িয়ে দেওয়া হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে রাজস্থানেও একটি ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। তরুণীকে খুনের আগে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ভিসেরা ও ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনাটি দিল্লির আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।

এক ঝলকে

  • দিল্লির আইআরএস অফিসারের মেয়ের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শ্বাসরোধ করে খুন ও হাড় ভেঙে দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে।
  • প্রাক্তন পরিচারক রাহুল মীনা অতিরিক্ত চাবি দিয়ে ঘরে ঢুকে এই তাণ্ডব চালায় এবং গয়না-নগদ লুঠ করে।
  • মৃতার নখের স্ক্র্যাপিং ও ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করে যৌন নির্যাতনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
  • অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে এর আগেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড পাওয়া গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *