পেনশনভোগীদের মুখে হাসি ফোটাতে নিজেদের পেটে টান! অর্ধেক বেতন নেবেন তেলেঙ্গানার মন্ত্রীরা

সরকারি কোষাগারে টান পড়লে সাধারণত সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা চাপানো হয়, কিন্তু এবার সম্পূর্ণ উল্টো পথে হেঁটে নজির গড়ল তেলেঙ্গনার রেবন্ত রেড্ডি সরকার। রাজ্যের হাজার হাজার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীর দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা মিটিয়ে দিতে মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিজেদের বেতন ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ক্যাবিনেট বৈঠকের পর এই অভাবনীয় ঘোষণা করা হয়। সরকারের এই পদক্ষেপকে সাম্প্রতিককালে হিমাচল প্রদেশ সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের এক বৃহত্তর প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বকেয়া মেটাতে ১০০ দিনের বিশেষ লক্ষ্যমাত্রা
রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কর্মরত কর্মীদের বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৬,২০০ কোটি টাকা এবং অবসরপ্রাপ্তদের পাওনা প্রায় ৮,০০০ কোটি টাকা। গত এক দশকে এই বকেয়া পাহাড়প্রমাণ আকার ধারণ করেছে। এই সংকট কাটাতে রেবন্ত রেড্ডি সরকার আগামী ১০০ দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। এই সময়ের মধ্যে পেনশনভোগীদের পাওনা মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অর্থের বিকল্প উৎস সন্ধানে একটি ‘রিসোর্স মোবিলাইজেশন’ সাব-কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
জনপ্রতিনিধিদের আত্মত্যাগ ও প্রশাসনিক সদিচ্ছা
রাজ্যের তথ্য ও জনসংযোগ মন্ত্রী পোঙ্গুলেতি শ্রীনিবাস রেড্ডি জানিয়েছেন, প্রবীণ নাগরিকদের প্রাপ্য টাকা পেতে যাতে এক অফিস থেকে অন্য অফিসে ঘুরতে না হয়, তা নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। মন্ত্রিসভার সদস্যরা স্বেচ্ছায় এই আত্মত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং প্রয়োজনে অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরাও একই পথে হাঁটবেন বলে জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হওয়ার পাশাপাশি আমলাতন্ত্রের কাছেও জনসেবার এক কঠোর বার্তা পৌঁছেছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
এক ঝলকে
- পেনশনভোগীদের ৮,০০০ কোটি টাকার বকেয়া মেটাতে নিজেদের অর্ধেক বেতন ছাড়ছেন তেলেঙ্গনার মন্ত্রীরা।
- আগামী ১০০ দিনের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে রাজ্য ক্যাবিনেট।
- অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ ‘রিসোর্স মোবিলাইজেশন’ সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে।
- গত ১০ বছর ধরে জমতে থাকা বকেয়ার পাহাড় সরাতেই এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল রেবন্ত রেড্ডি সরকার।