সাদা চামড়ার সন্তান জন্মালেই দেওয়া হয় মৃত্যুদণ্ড! ভারতের এই উপজাতির অদ্ভুত প্রথা শুনলে শিউরে উঠবেন

সাদা চামড়ার সন্তান জন্মালেই দেওয়া হয় মৃত্যুদণ্ড! ভারতের এই উপজাতির অদ্ভুত প্রথা শুনলে শিউরে উঠবেন

অন্ডমান দ্বীপপুঞ্জের জারাওয়া উপজাতিদের জীবনধারা ও তাদের এক ভয়াবহ সামাজিক প্রথা বর্তমানে আধুনিক সভ্যতার মানুষের মাঝে তীব্র কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। জারাওয়া জনগোষ্ঠী মূলত তাদের নিজস্ব আদিম সংস্কৃতি ও কঠোর রীতিনীতি মেনে চলতে অভ্যস্ত। তবে এই জনজাতির মধ্যে প্রচলিত একটি রীতি শুনলে যে কেউ শিউরে উঠবেন। তাদের সমাজে কোনো নবজাতক যদি ফর্সা গায়ের রং নিয়ে জন্মায়, তবে তাকে চরম পরিণতির শিকার হতে হয়।

রং নিয়ে বিচিত্র সংস্কার ও ভয়াবহ রীতি

জারাওয়ারা বিশ্বাস করে যে তাদের গোষ্ঠীর সবাই কৃষ্ণাঙ্গ, তাই সেখানে কোনো ফর্সা শিশুর স্থান নেই। যদি কোনো শিশু তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল গায়ের রং নিয়ে জন্মায়, তবে তাকে গোষ্ঠীর ঐতিহ্যের পরিপন্থী মনে করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এমন ক্ষেত্রে সেই নবজাতককে অনেক সময় মেরে ফেলা হয়। এই অদ্ভুত ও নৃশংস প্রথাটি দীর্ঘকাল ধরে তাদের মধ্যে চলে আসছে, যা মূলত নিজেদের রক্তের বিশুদ্ধতা রক্ষার একটি আদিম প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত।

কালো সন্তান পেতে অদ্ভুত প্রচেষ্টা

নিজেদের সন্তান যেন কোনোভাবেই ফর্সা না হয়, সেজন্য জারাওয়া নারীরা কিছু প্রাচীন ও লোকজ কৌশল অবলম্বন করেন। লোকলজ্জা আর গোষ্ঠীর শাস্তি থেকে বাঁচতে তারা কালো সন্তান হওয়ার প্রার্থনার পাশাপাশি পশুর রক্ত পান করার মতো ভয়াবহ কাজও করে থাকেন। তাদের ধারণা, এতে গর্ভস্থ সন্তানের গায়ের রং গাঢ় হবে এবং সে সমাজে টিকে থাকার অধিকার পাবে। ১৯৯০ সালের দিকে এই রহস্যময় গোষ্ঠীটি বহির্বিশ্বের নজরে এলেও তাদের অন্দরমহলের এসব রীতি আজও প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

অন্ডমানের এই জারাওয়ারা প্রায় ৫৫ হাজার বছর ধরে আদিম জীবন যাপন করছে। সরকার তাদের এলাকাটিকে সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা করে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু আধুনিক পৃথিবীর সাথে যোগাযোগহীনতার কারণে এই মানুষগুলোর মাঝে আজও এমন কঠোর ও অমানবিক ধ্যান-ধারণা শিকড় গেঁড়ে আছে। গায়ের রঙের ভিত্তিতে বেঁচে থাকার অধিকার নির্ধারণের এই বিষয়টি মানবাধিকারের প্রেক্ষাপটে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক ঝলকে

  • অন্ডমানের জারাওয়া উপজাতিদের মধ্যে ফর্সা শিশু জন্মালে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রথা প্রচলিত রয়েছে।
  • নিজেদের কৃষ্ণাঙ্গ পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং সন্তানের জীবন রক্ষায় জারাওয়া নারীরা পশুর রক্ত পান করেন।
  • প্রায় ৫৫ হাজার বছরের পুরনো এই জনজাতি আধুনিক বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন এবং তাদের জনসংখ্যা মাত্র ৪০০ জনের কাছাকাছি।
  • সরকারিভাবে জারাওয়াদের সংরক্ষিত এলাকায় বহিরাগতদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *