তৃণমূল সাফ হবে বাংলা থেকে, তোষণ ও দুর্নীতি ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শুভেন্দুর

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়ালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোষণ এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্য থেকে সম্পূর্ণভাবে ‘সাফ’ হয়ে যাবে এবং মানুষ বর্তমান সরকারকে প্রত্যাখ্যান করবে। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরে বিগত বছরগুলোর সমীকরণ বদলে যাবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
দুর্নীতি ও তোষণ রাজনীতির প্রভাব
শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের রেশন দুর্নীতিকে বিহারের পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির সঙ্গে তুলনা করে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মাধ্যমে হওয়া লুটের টাকার সিংহভাগই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে পৌঁছেছে। তিনি স্পষ্ট জানান, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্তদের বাড়িতে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তোষণ নীতির মাধ্যমে সমাজকে বিভক্ত করার যে প্রচেষ্টা শাসকদল করছে, তার উপযুক্ত জবাব সাধারণ মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে দেবে বলে তিনি মনে করেন।
পরিবর্তনের বার্তা ও রাজনৈতিক সচেতনতা
প্রথম দফার নির্বাচনে ৯১.৯১ শতাংশ রেকর্ড ভোটদানকে শুভেন্দু পরিবর্তনের সুনিশ্চিত ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। কোচবিহার, বীরভূম ও দক্ষিণ দিনাজপুরের মতো জেলাগুলোতে বিপুল জনজোয়ার মোদী সরকারের প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতীক বলে তিনি দাবি করেন। একইসঙ্গে অন্য দলের প্রতিনিধিদের বিজেপিতে যোগদানকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, শক্তিশালী ভারত গঠনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। আগামী ২৯ মে অবশিষ্ট আসনগুলোতে ভোটগ্রহণের পর ৪ মে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে যাবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এক ঝলকে
- শুভেন্দু অধিকারীর দাবি অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্য থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হবে।
- রেশন দুর্নীতির বিপুল অর্থ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে গিয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা।
- প্রথম দফার রেকর্ড ৯১.৯১ শতাংশ ভোটদানকে শাসকদলের বিরুদ্ধে গণরোষ ও পরিবর্তনের লক্ষণ হিসেবে দেখছে বিজেপি।
- আগামী ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিনেই রাজ্যে বড়সড় রাজনৈতিক রদবদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।