‘এই অসভ্যতা নিতে পারছি না’, নিজের গড় ভবানীপুরে সভা করতে না পেরে মাঝপথেই মঞ্চ ছাড়লেন মমতা!

শনিবার শেষ দফার ভোটের প্রচারে খোদ ভবানীপুরে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চক্রবেড়িয়া রোডে দলীয় জনসভা চলাকালীন বিজেপির মাইকিং ও চরম বিশৃঙ্খলার জেরে মাঝপথেই ভাষণ থামিয়ে মঞ্চ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বচসা ও স্লোগান যুদ্ধ
এদিন ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোড শো এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জনসংযোগ কর্মসূচি চলাকালীন দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকরা মুখোমুখি হয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। প্রাথমিক উত্তেজনার পর শুভেন্দু অধিকারী তাঁর কর্মসূচি থামিয়ে দিলেও, কয়েক ঘণ্টা পর তৃণমূলের জনসভা চলাকালীন পুনরায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
তীব্র ক্ষোভ ও সভা ত্যাগ
নিজস্ব নির্বাচনী এলাকায় সভা করতে বাধা পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক অনুমতি থাকা সত্ত্বেও কেন অন্য মাইকের শব্দে সভা বিঘ্নিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। সাধারণ মানুষের উদ্দেশে নিজের অসহায়তা প্রকাশ করে তিনি জানান, জোরপূর্বক এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণে অপমানজনক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তাঁর পক্ষে বক্তব্য চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত উপস্থিত জনতার কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি সভা ত্যাগ করেন।
রাজনৈতিক প্রভাব
নির্বাচনের অন্তিম লগ্নে এসে এই সংঘাত তৃণমূল ও বিজেপি উভয় শিবিরের মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সভা ভণ্ডুল হওয়ার এই অভিযোগকে তৃণমূল কেন্দ্র দখল ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের চেষ্টা হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক পুলিশি মোতায়েন করা হয়েছে এবং শেষ মুহূর্তের ভোট প্রচারে নতুন করে উত্তাপ যুক্ত হয়েছে।
এক ঝলকে
- ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া রোডে সভা চলাকালীন বাধার মুখে পড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- বিজেপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও ভাষণ থামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ।
- প্রশাসনিক অনুমতি থাকা সত্ত্বেও সভা করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মঞ্চ ছাড়েন মুখ্যমন্ত্রী।
- ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন এলাকায় র্যালি করার ঘোষণা দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।