‘১০০টি দেহ পুঁতেছি নিজের হাতে’! ধর্মস্থল মন্দিরের প্রাক্তন কর্মীর বয়ানে কেঁপে উঠল এলাকা

কর্ণাটকের বিখ্যাত তীর্থস্থান ধর্মস্থলের দীর্ঘদিনের এক সাফাইকর্মীর বিস্ফোরক জবানবন্দি ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা ভারতজুড়ে। দীর্ঘ ১৬ বছর আত্মগোপন করে থাকার পর, সম্প্রতি আদালতে হাজির হয়ে ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন যে ১৯৯৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তাঁকে কয়েক’শ লাশ গুম করতে বাধ্য করা হয়েছিল। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই মরদেহগুলোর অধিকাংশই ছিল কিশোরী এবং নারীদের, যাদের ওপর পাশবিক যৌন নির্যাতন চালানোর পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
লোমহর্ষক বর্ণনা ও অপরাধের ধরন
আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে ওই সাফাইকর্মী জানিয়েছেন, মন্দিরের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নির্দেশে তিনি অন্তত একশ মরদেহ মাটিচাপা দিয়েছেন অথবা পুড়িয়ে ফেলেছেন। তিনি এমন কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন যা সাধারণ মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়। এর মধ্যে ছিল স্কুল ইউনিফর্ম পরা এক কিশোরীর দেহ, যার শরীরে ছিল ভয়াবহ নির্যাতনের চিহ্ন। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিচয় মুছে দিতে তরুণীদের মুখ এসিড দিয়ে পুড়িয়ে সংবাদপত্র দিয়ে মুড়িয়ে ফেলে দেওয়া হতো। মূলত প্রভাবশালী অপরাধীদের ভয়ে এবং নিজের প্রাণ বাঁচাতে তিনি এতদিন মুখ খুলতে পারেননি বলে জানিয়েছেন।
আইনি পদক্ষেপ ও প্রভাবশালীদের যোগসাজশ
এই রোমহর্ষক ঘটনার প্রেক্ষিতে কর্ণাটক পুলিশ ইতিমধ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) অনুযায়ী মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগকারীর দাবি, অপরাধীদের তালিকায় মন্দির প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু ক্ষমতাধর ব্যক্তি রয়েছেন। প্রাণহানির আশঙ্কায় তিনি বর্তমানে ‘সাক্ষী সুরক্ষা আইন’-এর অধীনে নিরাপত্তা দাবি করেছেন এবং একটি সিলগালা খামে মূল অপরাধীদের নাম সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীর কাছে জমা দিয়েছেন। এদিকে কর্ণাটক মহিলা কমিশন এবং আইনজীবীদের একটি সংগঠন এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠনের দাবি জানিয়েছে।
সামাজিক প্রভাব ও পুরোনো ক্ষোভ
ধর্মস্থলের মতো পবিত্র স্থানে এমন পৈশাচিক ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ২০১২ সালের আলোচিত ‘সৌজন্য’ হত্যা মামলা এবং ২০০৩ সালে নিখোঁজ হওয়া এক ডাক্তারি ছাত্রীর প্রসঙ্গ পুনরায় আলোচনায় উঠে এসেছে। স্থানীয়দের ধারণা, বহু বছর ধরে নিখোঁজ থাকা অসংখ্য মানুষের শেষ পরিণতি হয়তো ওই সাফাইকর্মীর দেওয়া বর্ণনার মধ্যেই লুকিয়ে আছে। এই ঘটনা কেবল কর্ণাটকের আইন-শৃঙ্খলাই নয়, বরং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আড়ালে থাকা ক্ষমতাধরদের অন্ধকার জগতকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
এক ঝলকে
- ধর্মস্থল মন্দিরের প্রাক্তন সাফাইকর্মী ১৯৯৮-২০১৪ সালের মধ্যে কয়েক’শ মরদেহ গুম করার কথা স্বীকার করেছেন।
- নিহতদের অধিকাংশই ছিল নাবালিকা ও নারী, যাদের ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
- নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে ১৬ বছর পর আদালতে জবানবন্দি দিলেন ওই ব্যক্তি।
- ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠনের জোরালো দাবি উঠেছে।