২৪ ঘণ্টার সময়সীমা! ভয় দেখালেই ওসি-আইসিদের বিরুদ্ধে ‘চরম ব্যবস্থা’, কড়া হুঙ্কার কমিশনের

নির্বাচন কমিশনের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, ভোটগ্রহণের আগে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কলকাতা পুলিশ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে কমিশন সাফ জানিয়েছে, ভোটারদের ভয় দেখানো বা এলাকায় বিস্ফোরক উদ্ধারের মতো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও আইসি-দের সরাসরি দায়বদ্ধ করা হবে। বিশেষত, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কঠোর আইনি পদক্ষেপ না নিলে পুলিশ কর্মকর্তাদের চরম পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ও সমন্বয়ে বাড়তি জোর
বৈঠকে উপস্থিত থাকা বিশেষ পর্যবেক্ষক ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে প্রতিটি এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসন এখন থেকেই পূর্ণমাত্রায় সক্রিয় থাকে। কলকাতা উত্তর, দক্ষিণ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর কমিশন জানিয়েছে, ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনাই এখন মূল লক্ষ্য। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে এবং নির্বিঘ্নে বুথমুখী হতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সমন্বয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লক্ষ্য ৯০ শতাংশ ভোটদান
এবার বাংলায় রেকর্ডসংখ্যক ভোটদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কমিশন। রাজ্য নির্বাচন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত ৮০ শতাংশের আশেপাশে ভোট পড়লেও এবার তা ৯০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে প্রতিটি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সরাসরি কমিশনের অফিস থেকে ‘লাইভ ফিড’ দেখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বুথের ভেতরে কোনো অননুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, প্রতিটি ভোট হবে সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ।
এক ঝলকে
- ভোটারদের ভয় দেখালে বা এলাকায় বিস্ফোরক উদ্ধার হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার কড়া নির্দেশ।
- ভোটের হার বাড়িয়ে ৯০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন।
- প্রতিটি বুথে থাকবে সিসিটিভি নজরদারি এবং সরাসরি লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সুবিধা।
- আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন।