শহরজুড়ে বাড়বে ৭০০% দারিদ্র্য! তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে ২০৫০ সালের মধ্যে নরক হবে জনজীবন: বিশ্ব ব্যাংক

শহরজুড়ে বাড়বে ৭০০% দারিদ্র্য! তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে ২০৫০ সালের মধ্যে নরক হবে জনজীবন: বিশ্ব ব্যাংক

বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার বর্তমানে এক ভয়াবহ সংকটের রূপ নিয়েছে। বিশ্ব ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বসবাসকারী দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭০০ শতাংশ মানুষ তীব্র তাপের ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিশেষ করে ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা বৈশ্বিক দক্ষিণের অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর শহরগুলোতে এই তাপপ্রবাহ এক ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে শহরগুলোর অভ্যন্তরে ‘নগর তাপ দ্বীপ’ বা আরবান হিট আইল্যান্ড তৈরি হচ্ছে, যা সাধারণ তাপমাত্রাকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও জনজীবন

তীব্র তাপ কেবল জনস্বাস্থ্যের জন্যই হুমকি নয়, বরং এটি সরাসরি অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানকে আঘাত করছে। অতিরিক্ত গরমে শ্রমজীবী মানুষের কর্মক্ষমতা কমছে, বিঘ্নিত হচ্ছে শিশুদের শিক্ষা এবং ব্যাহত হচ্ছে জরুরি চিকিৎসাসেবা। ক্রমবর্ধমান তাপের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা আকাশচুম্বী হওয়ায় পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হচ্ছে, যা দূষণের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে ২০৫০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য ও অনাহার চরম আকার ধারণ করবে এবং শহরগুলো থেকে গণ-অভিবাসন শুরু হতে পারে।

সংকট মোকাবিলায় বিশ্ব ব্যাঙ্কের নির্দেশিকা

এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ব ব্যাঙ্ক, UN-Habitat এবং UNEP-এর সহযোগিতায় ‘গ্লোবাল সাউথ-এ নগর তাপ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক নির্দেশিকা’ প্রকাশ করেছে। এই হ্যান্ডবুকে নীতিনির্ধারকদের জন্য ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সাশ্রয়ী সমাধানের পথ দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—শহরজুড়ে সবুজায়ন বাড়ানো, ছাদ-বাগান বা গ্রিন রুফ তৈরি, প্রাকৃতিক উপায়ে ঘর শীতল রাখার বা ‘প্যাসিভ কুলিং’ ব্যবস্থার প্রচলন এবং উন্নত নগর পরিকল্পনা। বিজ্ঞানীদের মতে, এখনই টেকসই পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে শহরগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

এক ঝলকে

  • ২০৫০ সালের মধ্যে শহরের দরিদ্র মানুষের মধ্যে তাপজনিত ঝুঁকি বাড়বে সাত গুণ বা ৭০০ শতাংশ।
  • শহরগুলোতে ‘হিট আইল্যান্ড’ প্রভাবের কারণে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।
  • সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলো।
  • সংকট মোকাবিলায় সবুজ অবকাঠামো এবং প্রাকৃতিক শীতলীকরণ পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব ব্যাঙ্ক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *