‘এখনও মমতার কথা শুনছেন?’ ভবানীপুরে তৃণমূলের গান বাজতেই মেজাজ হারালেন শুভেন্দু, পুলিশকে চরম হুঁশিয়ারি!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার আগে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে প্রচারের পারদ তুঙ্গে। শনিবার এই এলাকায় প্রচারকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি শিবিরের মধ্যে নজিরবিহীন সংঘাতের চিত্র ফুটে ওঠে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মাইক বাজানোর অভিযোগ এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে রণংদেহি মেজাজে ধরা দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। উত্তেজনার জেরে সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় নির্বাচনী কর্মসূচি।
সংঘাতের সূত্রপাত ও রাজনৈতিক পারদ
শনিবার চক্রবেড়িয়া রোডে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী সভা চলাকালীন অদূরেই বিজেপির মাইক বাজার অভিযোগ ওঠে। ভাষণে ব্যাঘাত ঘটায় বিরক্তি প্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী। এর কিছু পরেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন শুভেন্দু অধিকারীর পদযাত্রার মাঝে তৃণমূলের নির্বাচনী গান বাজতে শুরু করে। প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের গান শুনে মেজাজ হারান শুভেন্দু এবং কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের সরাসরি ধমক দেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ এখনও একতরফাভাবে তৃণমূলের স্বার্থে কাজ করছে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বিরোধী দলনেতার দাবি, নির্বাচনী প্রচারে সমতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে প্রশাসন। কালীঘাট ও ভবানীপুর থানার বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি জানান, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বিজেপিকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, অথচ তৃণমূল নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই প্রচার চালাচ্ছে। প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ে অভিযোগ জানানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের দাবি বিজেপিই ইচ্ছাকৃতভাবে উস্কানি দিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে।
প্রভাব ও ফলাফল
ভবানীপুরের এই ‘মাইক যুদ্ধ’ এবং প্রশাসনিক টানাপোড়েন ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ মুহূর্তের এই স্নায়ুযুদ্ধ মূলত বুথ স্তরের কর্মীদের চাঙ্গা করার কৌশল। তবে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা নির্বাচনের দিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সব মিলিয়ে ভোটের ঠিক আগে ভবানীপুরের অলিগলিতে এখন চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে।
এক ঝলকে
- ভবানীপুরে প্রচারের মাঝে তৃণমূলের গান বাজায় পুলিশকে তীব্র ধমক শুভেন্দু অধিকারীর।
- মুখ্যমন্ত্রীর জনসভার পাশে বিজেপির মাইক বাজায় বিঘ্নিত হয় তৃণমূলের নির্বাচনী কর্মসূচি।
- পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও প্রচারের অনুমতি নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ বিরোধী শিবিরের।
- নির্বাচন প্রক্রিয়ার শেষ লগ্নে দুই প্রধান প্রতিপক্ষের বাগযুদ্ধে তপ্ত রাজনৈতিক পরিবেশ।