৫ বছরে আয় বেড়েছে ১৬০%! ভোটের মুখে ফিরহাদ হাকিমের ‘কুবেরের ধন’ দেখে চক্ষু চড়কগাছ আমজনতার!

নির্বাচনী হলফনামার তথ্যানুযায়ী, গত পাঁচ বছরে কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের ব্যক্তিগত সম্পদের গ্রাফ উর্ধ্বমুখী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ১৩.৩৪ কোটি টাকা, যা ২০২৬ সালের সর্বশেষ হলফনামায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২.৫৭ কোটি টাকায়। অর্থাৎ মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আয় ও ঋণের খতিয়ান
সম্পত্তির পাশাপাশি মন্ত্রীর বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রেও অভাবনীয় লম্ফ লক্ষ্য করা গেছে। গত পাঁচ বছরে তাঁর বার্ষিক উপার্জন ৬৫.৮৭ লক্ষ টাকা থেকে ১৬০ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১.৭১ কোটি টাকায়। তবে আয়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ঋণের বোঝাও; বর্তমানে তাঁর মোট ঋণের পরিমাণ ১.৬২ কোটি টাকা, যা পাঁচ বছর আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। পেশাগত পরিচয়ে নিজেকে ‘ব্যবসায়ী, সমাজসেবী ও রাজনীতিবিদ’ হিসেবে দাবি করা এই নেতার এবং তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা ব্যাংক আমানত, সোনা ও স্থাবর সম্পত্তির মূল্যবৃদ্ধিও এই সম্পদ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
আইনি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
সম্পদ বৃদ্ধির খতিয়ানের মাঝেই তাঁর আইনি প্রোফাইলেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২১ সালে তাঁর বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুইয়ে। কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের বিধায়ক ফিরহাদ এবারও একই আসন থেকে লড়ছেন। নির্বাচনের ঠিক আগে একজন জনপ্রতিনিধির আয়ের এই বিপুল প্রবৃদ্ধি ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং রাজনৈতিক মহলে কড়া আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এক ঝলকে
- পাঁচ বছরে ফিরহাদ হাকিমের মোট সম্পদ ১৩.৩৪ কোটি থেকে বেড়ে ২২.৫৭ কোটি টাকা হয়েছে।
- গত পাঁচ বছরে তাঁর বার্ষিক উপার্জন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১৬০ শতাংশ।
- মন্ত্রীর বর্তমান ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.৬২ কোটি টাকায়।
- হলফনামা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে দুটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।