ভোটের ময়দানে এবার ‘বিচারের দাবি’: জলহাটির ঘাসফুল দুর্গে কি ইতিহাস গড়বেন নির্যাতিতার মা?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম জলহাটি। এক সময়ের শান্ত এই শিল্পাঞ্চল এখন রাজ্যের অন্যতম হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আরজি কর কাণ্ডের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি, বরং নির্যাতিতার মায়ের সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ে নামা এই কেন্দ্রটিকে এক অনন্য আবেগঘন রণক্ষেত্রে রূপান্তরিত করেছে। বিটি রোডের ধুলোমাখা অলিগলি থেকে আবাসন এলাকা—সর্বত্রই এখন উন্নয়ন ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে নারী নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।
তৃণমূলের দুর্গে পরিবারতন্ত্র বনাম অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই
বিগত দেড় দশক ধরে জলহাটি বিধানসভা কেন্দ্রটি তৃণমূল কংগ্রেসের একচ্ছত্র দখলে রয়েছে। তবে এবার দীর্ঘদিনের বিধায়ক নির্মল ঘোষের পরিবর্তে ঘাসফুল শিবির বাজি ধরেছে তাঁর পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষের ওপর। সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে তীর্থঙ্কর জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হলেও, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেছে। শাসক দলের সুসংগঠিত প্রচারের বিপরীতে কোনো জাঁকজমক ছাড়াই সাধারণ পোশাকে পথে নেমেছেন বিজেপির প্রার্থী তথা নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ। তাঁর “ব্যবস্থা বদলানোর” ডাক মধ্যবিত্ত ও সাধারণ নারী ভোটারদের মধ্যে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বামেদের প্রত্যাবর্তন ও প্রভাব
এই কেন্দ্রে লড়াইকে আরও জটিল করে তুলেছেন বামফ্রন্ট প্রার্থী তথা আরজি কর আন্দোলনের পরিচিত মুখ কলতান দাশগুপ্ত। যুব সমাজের একটি বড় অংশ কলতানের পাশে দাঁড়ানোয় তৃণমূলের নিশ্চিত ভোট ব্যাংকে ফাটল ধরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক দলের বিরুদ্ধে যে নীরব ক্ষোভ জমা হয়েছে, তা বিরোধী ভোটের বিভাজনের ওপর নির্ভর করছে। একদিকে সরকারি প্রকল্পের সুফল ভোগী অনুগত ভোটার, অন্যদিকে শহুরে নারী ও তরুণ প্রজন্মের ন্যায়বিচারের দাবি—এই দুই বিপরীতমুখী স্রোত জলহাটির ফলাফলকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
এক ঝলকে
- জলহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে দুই বছর আগের আরজি কর কাণ্ডের প্রভাব নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে বড় ভূমিকা নিচ্ছে।
- তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতার পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষের বিরুদ্ধে লড়ছেন নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ ও বামপ্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত।
- সরকারি উন্নয়ন ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বিপরীতে নারী নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচারই এবারের নির্বাচনের মূল হাতিয়ার।
- যুব সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বাম-বিজেপি মেরুকরণ শাসক দলের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।