‘শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া আমার গ্যারান্টি’, ঠাকুরনগরে মতুয়া আবেগ উস্কে মাস্টারস্ট্রোক মোদীর!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের অন্তিম লগ্নে ঠাকুরনগরের পুণ্যভূমি থেকে মতুয়া ও নমশূদ্র সম্প্রদায়ের মন জয়ে বড়সড় চাল দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শেষ রবিবারের প্রচারে এসে তিনি সাফ জানিয়েছেন, দেশভাগের শিকার হয়ে ওপার বাংলা থেকে আসা শরণার্থীদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা ভারতের ঐতিহাসিক দায়িত্ব। সিএএ বা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বাস্তবায়নের মাধ্যমে শরণার্থীদের হাতে স্থায়ী ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একে ‘মোদী গ্যারান্টি’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
শরণার্থী সমস্যা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি দাবি করেন, যখন পূর্ব বাংলা থেকে বিতাড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কেউ ছিল না, তখন থেকেই বিজেপি তাঁদের অধিকারের সপক্ষে লড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মতুয়া ভোটব্যাঙ্ককে সংহত করতেই নাগরিকত্বের এই আবেগকে ফের উসকে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথম দফার ভোটে বাংলায় বিপুল জনসমর্থন পাওয়ার দাবি তুলে তিনি দ্বিতীয় দফায় রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শাসক দলকে বিদায়ের ডাক
রাজ্যের বর্তমান শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে তারা জনরোষের মুখে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান এখন বিস্মৃত এবং রাজ্যে সিন্ডিকেট ও কাটমানির রাজত্ব চলছে বলে তিনি তোপ দাগেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বীরত্বগাথা উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান, একটি করে ভোটের মাধ্যমে রাজ্যকে দুর্নীতি ও নারী নির্যাতনের অভিশাপ থেকে ‘আজাদি’ বা মুক্তি দিতে।
এক ঝলকে
- ঠাকুরনগরের জনসভায় মতুয়া ও শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে ‘মোদী গ্যারান্টি’ হিসেবে ঘোষণা।
- সিএএ আইনের মাধ্যমে শরণার্থীদের হাতে দ্রুত স্থায়ী পরিচয়পত্র ও নাগরিক অধিকার পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস।
- তৃণমূলের সিন্ডিকেট রাজ ও কাটমানি সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে বিজেপির পক্ষে ভোটদানের আহ্বান।
- প্রথম দফার ভোটের হারে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত ও প্রবল আত্মবিশ্বাস প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর।