ডায়মন্ড হারবারে কমিশনের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’! ৫ পুলিশকর্তা সাসপেন্ড, বাইক বাহিনী রুখতে ১২ ঘণ্টার ডেডলাইন

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের প্রাক্কালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এলাকা দখল এবং বাইক বাহিনীর তাণ্ডব নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ সামনে আসতেই নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে মাত্র ১২ ঘণ্টার চরম সময়সীমা বা ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক রদবদল
কর্তব্য পালনে অবহেলা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে কমিশনের কোপে পড়েছেন প্রশাসনের শীর্ষস্তরের কর্মকর্তারা। ডায়মন্ড হারবারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং মহকুমা পুলিশ আধিকারিকসহ (SDPO) মোট পাঁচজন পুলিশ অফিসারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল ইতিমধ্যে কাকদ্বীপ সফর করে প্রার্থী ও প্রতিনিধিদের সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফেরাতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি ব্যাপক হারে বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অশান্তির নেপথ্যে ‘খেলা হবে’ স্লোগান ও আতঙ্ক
অভিযোগ উঠেছে যে, দুষ্কৃতীরা বাইক বাহিনী নিয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এবং ‘ভয়ংকর খেলা হবে’ বলে সাধারণ মানুষকে সরাসরি হুমকি দিচ্ছে। এই ধরণের ভীতি প্রদর্শনের ফলে জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, যা ভোটের স্বাভাবিক পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রশাসনিক এই কড়া পদক্ষেপের মাধ্যমে কমিশন বার্তা দিতে চাইছে যে, কোনো ধরণের পেশিশক্তির প্রদর্শন বা ভোটারদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই জিরো টলারেন্স নীতি নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।
এক ঝলকে
- ডায়মন্ড হারবারে ভোটারদের হুমকির অভিযোগে পুলিশকে ১২ ঘণ্টার ডেডলাইন দিল কমিশন।
- দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও এসডিপিওসহ ৫ অফিসার বরখাস্ত।
- বাইক বাহিনীর তাণ্ডব ও ‘ভয়ংকর খেলা হবে’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক।
- শান্তি ফেরাতে কাকদ্বীপ ও কাটোয়া সংলগ্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল বৃদ্ধির নির্দেশ।