হাজার হাজার লিটার তেল মজুত থাকলেও অ্যাম্বুল্যান্সকে ফেরাল পাম্প, পথেই মৃত্যু রোগীর!

অমানবিকতার চরম নিদর্শন দেখল উত্তরপ্রদেশের বৈরিয়া তহসিলের তেঙ্গরাহি গ্রাম। পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকা সত্ত্বেও একটি মুমূর্ষু রোগীবাহী অ্যাম্বুল্যান্সকে তেল দিতে অস্বীকার করার অভিযোগ উঠল স্থানীয় এক পেট্রল পাম্পের বিরুদ্ধে। সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে মাঝপথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ৫০ বছর বয়সি ছট্টু শর্মা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মজুত ছিল পর্যাপ্ত জ্বালানি
গত ২২ এপ্রিল রাতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ছট্টু শর্মাকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিল তাঁর পরিবার। মাঝপথে অ্যাম্বুল্যান্সের তেল ফুরিয়ে আসায় রাত ৯টা ২০ মিনিট নাগাদ সেটিকে ‘মেসার্স ভূষণ সার্ভিস স্টেশন’-এ নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, বারংবার কাকুতি-মিনতি করা সত্ত্বেও পাম্পের ম্যানেজার ‘তেল নেই’ বলে তাঁদের ফিরিয়ে দেন। প্রায় ১৫ মিনিট সেখানে দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো সাহায্য না মেলায় অন্য ব্যবস্থা করতে করতে অনেক দেরি হয়ে যায়, যার ফলশ্রুতিতে পথেই রোগীর মৃত্যু হয়।
আইনি পদক্ষেপ ও তদন্ত
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলাশাসক মংলা প্রসাদ সিং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সিসিটিভি ফুটেজ এবং পাম্পের স্টক রেজিস্টার খতিয়ে দেখে চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। দেখা যায়, ওই রাতে পাম্পে প্রায় ৪,৫৯৫ লিটার পেট্রল এবং ৪,৭৮৪ লিটার ডিজেল মজুত ছিল। পর্যাপ্ত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও কেবল অবহেলার কারণে এক ব্যক্তির প্রাণ গেল বলে নিশ্চিত হয়েছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই সাপ্লাই ইনস্পেক্টর ওই পাম্পের ম্যানেজার অশোক কুমার ভারতীর বিরুদ্ধে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ
অভিযুক্ত ম্যানেজার বর্তমানে পলাতক থাকলেও তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ইন্ডিয়ান অয়েল-এর প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পাম্পটির লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। জরুরি পরিষেবায় বাধা দেওয়া এবং মানবিক মূল্যবোধ লঙ্ঘনের এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
এক ঝলকে
- পর্যাপ্ত জ্বালানি থাকা সত্ত্বেও অ্যাম্বুল্যান্সকে তেল না দেওয়ায় উত্তরপ্রদেশে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
- পাম্পের স্টক রেজিস্টারে ৪,৫৯৫ লিটার পেট্রল ও ৪,৭৮৪ লিটার ডিজেল মজুত থাকার প্রমাণ মিলেছে।
- পাম্প ম্যানেজার অশোক কুমার ভারতীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে পলাতক।
- অভিযুক্ত পেট্রল পাম্পের লাইসেন্স বাতিলের জন্য ইন্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।