২৯ এপ্রিল কি তবে উল্টে যাবে তাসের ঘর! দক্ষিণবঙ্গের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে কার দখলে যাবে নবান্ন

২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত তথা দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে এখন তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ। আগামী বুধবার রাজ্যের বাকি ১৪২টি আসনে জনমত প্রতিফলিত হতে চলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২৯ এপ্রিলের এই লড়াই কার্যত ক্ষমতার চাবিকাঠি হতে চলেছে, যেখানে নির্ধারিত হবে আগামী পাঁচ বছর বাংলার মসনদে কে বসবেন। কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা এবং শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন আসনগুলো এই দফায় আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে।
হেভিওয়েটদের লড়াই ও মর্যাদার লড়াই
এই দফায় রাজ্যের একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ইভিএমে বন্দি হবে। কলকাতার মেয়র তথা মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের জন্য কলকাতা বন্দর কেন্দ্রটি যেমন মর্যাদার লড়াই, তেমনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক হিসেবে পরিচিত ভবানীপুর কেন্দ্রের দিকে নজর রয়েছে গোটা রাজ্যের। নজর কেড়েছে যাদবপুর কেন্দ্রটিও, যেখানে বর্ষীয়ান আইনজীবী ও সিপিআই(এম) নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের উপস্থিতি লড়াইকে ত্রিমুখী রূপ দিয়েছে। অন্যদিকে, ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে তারকা প্রার্থী রাজ চক্রবর্তীর সাংগঠনিক লড়াই ও বিরোধী শিবিরের দাপট সমানে সমান টক্কর দিচ্ছে।
দক্ষিণবঙ্গের রাশ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
দক্ষিণবঙ্গের এই আসনগুলো ঐতিহ্যগতভাবে শাসক দলের দুর্গ হিসেবে পরিচিত হলেও এবার সুন্দরবন থেকে শুরু করে মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে বিজেপির সক্রিয়তা নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। রায়দিঘি ও কাকদ্বীপের মতো প্রান্তিক আসনেও এবার জোর টক্কর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই দফার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে নবান্নের দখল কার হাতে থাকবে। একদিকে যেমন শাসক দল তাদের দীর্ঘদিনের ‘গড়’ রক্ষা করতে মরিয়া, অন্যদিকে বিরোধীরা চাইছে এই গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে ধস নামিয়ে রাজনৈতিক পালাবদলের সূচনা করতে।
এক ঝলকে
- ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় তথা শেষ দফায় রাজ্যের ১৪২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
- ফিরহাদ হাকিম, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং রাজ চক্রবর্তীর মতো হাইপ্রোফাইল প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে এই পর্বে।
- কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা এবং শিল্পাঞ্চলের আসনগুলো সরকার গঠনের ক্ষেত্রে প্রধান ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় বিরোধী শিবিরের শক্তিশালী প্রার্থীদের উপস্থিতি লড়াইকে বহুমুখী করে তুলেছে।