নির্বাচনী প্রচারে বাইক দাপট রুখতে অনড় নির্বাচন কমিশন, সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা

ভোটের ময়দানে রাজনৈতিক দলগুলোর বাইক মিছিল এবং তার জেরে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ বাইক চলাচলের ওপর কমিশনের আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আজ, সোমবার হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছে কমিশন। আজ দুপুর ১২টা নাগাদ এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই বাইক মিছিলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কমিশন বাইক চলাচলের ওপর নির্দিষ্ট কিছু কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। তবে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চ গত শুক্রবার এক রায়ে জানায় যে, বাইক মিছিল নিষিদ্ধ থাকলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের ওপর লাগামহীন নিষেধাজ্ঞা চাপানো যাবে না। আদালতের এই পর্যবেক্ষণের ফলে কমিশনের মূল নির্দেশিকা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
আইনি লড়াই ও কমিশনের যুক্তি
কমিশন সূত্রে খবর, নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে বাইক চলাচলের ওপর যে কঠোর বিধিনিষেধ ছিল, সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ে তাতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করেছিল যে ভোটাররা সপরিবারে বাইকে চড়ে কেন্দ্রে যেতে পারবেন এবং অফিসযাত্রী বা ডেলিভারি বয়দের মতো জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন। কমিশনের আশঙ্কা, এই শিথিলতার সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক কর্মীরা অশান্তি ছড়াতে পারে। মূলত এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা ডিভিশন বেঞ্চের হস্তক্ষেপ চেয়েছে।
নাগরিক অধিকার বনাম নিরাপত্তা
সিঙ্গল বেঞ্চ তার রায়ে সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে জানিয়েছিল যে, কমিশনের বিশেষ ক্ষমতা থাকলেও তা যেন সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব না করে। শুধুমাত্র অপরাধের আশঙ্কায় সবার চলাফেরায় লাগাম টানা যুক্তিযুক্ত নয় বলে আদালত মন্তব্য করেছিল। এখন দেখার বিষয়, ডিভিশন বেঞ্চ নাগরিক স্বাধীনতা এবং নির্বাচনী নিরাপত্তার এই দ্বন্দ্বে কোন পক্ষকে সমর্থন জানায়। এই মামলার রায়ের ওপরই নির্ভর করছে ভোটের শেষ মুহূর্তের প্রচার ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের রূপরেখা।
এক ঝলকে
- বাইক মিছিল রুখতে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের করল নির্বাচন কমিশন।
- সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী সাধারণ মানুষের যাতায়াতে ছাড় দেওয়ার বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।
- আজ দুপুর ১২টায় মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
- নির্বাচনী নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকারের ভারসাম্য নিয়ে আইনি লড়াই এখন তুঙ্গে।