বামেদের জয়জয়কার, ভরাডুবি হলো এবিভিপি-র

বামেদের জয়জয়কার, ভরাডুবি হলো এবিভিপি-র

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের আবহেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখল বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি বা আইসিসি-তে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হতেই দেখা যাচ্ছে, প্রতিটি বিভাগেই বামেরা বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। গত ২১ ও ২৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও শেষ পর্যন্ত খাতা খুলতে ব্যর্থ হয়েছে গেরুয়া শিবিরের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি।

ইঞ্জিনিয়ারিং ও কলা বিভাগে বাম দাপট

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক বিভাগে ডিএসএফ (DSF) প্রায় ১৩০০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছে। এই বিভাগে তাদের আধিপত্য ছিল প্রশ্নাতীত। অন্যদিকে, ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতকোত্তর বিভাগেও নিজেদের জমি ধরে রেখেছে ডিএসএফ। সেখানে তারা প্রায় ১০০ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছে। কলা বিভাগের চিত্রটিও বামেদের অনুকূলে। কলা বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর—উভয় স্তরেই জয়লাভ করেছে এসএফআই (SFI)।

নির্বাচনের প্রভাব ও রাজনৈতিক গুরুত্ব

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই জয় বাম শিবিরের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশেষ করে বিধানসভা নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে এই ফলাফল ছাত্র রাজনীতিতে বামপন্থীদের প্রাসঙ্গিকতাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করল। এই নির্বাচনে এবিভিপি-র শোচনীয় পরাজয় ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সাধারণ পড়ুয়াদের একটি বড় অংশ এখনও পরিচিত বামপন্থী ছাত্র রাজনীতিতেই আস্থা রাখছেন। এই ফলের জেরে আগামী দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ছাত্র প্রতিনিধিদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিসি নির্বাচনে সবকটি বিভাগে জয়ী হয়েছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো।
  • ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বিভাগে বিপুল ব্যবধানে জিতেছে ডিএসএফ।
  • কলা বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের দখল নিয়েছে এসএফআই।
  • প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও কোনো আসনেই জয় পায়নি গেরুয়া ছাত্র সংগঠন এবিভিপি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *