ভোট বঙ্গে কত মদ বাজেয়াপ্ত?

ভোট বঙ্গে কত মদ বাজেয়াপ্ত?

রাজ্যে দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের দামামা বাজার আগে এক নজিরবিহীন সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন। সোমবার বিকেলে প্রচারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরপরই কমিশন জানিয়েছে, এবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে উদ্ধার হওয়া নগদ টাকা, মদ এবং মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ সামগ্রীর পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত হওয়া সামগ্রীর মোট আর্থিক মূল্য ৫১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।

নির্বাচন চলাকালীন ভোটারদের প্রভাবিত করতে অসাধু উপায়ে টাকা বা মাদক বিলি করার অভিযোগ নতুন নয়। তবে এবারের পরিসংখ্যান গত বিধানসভা নির্বাচনের চেয়েও বহুগুণ বেশি। ২০২১ সালের নির্বাচনে যেখানে ৩৩৯ কোটি টাকার সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানে এবারের উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর পরিমাণ নির্বাচনের মাঝপথেই ৫০০ কোটির গণ্ডি অতিক্রম করেছে। মূলত রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে কমিশনের নজরদারি যে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, এই পরিসংখ্যান তারই প্রমাণ দিচ্ছে।

মদ ও মাদকের বিপুল দাপট

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোট বাজেয়াপ্ত হওয়া সামগ্রীর মধ্যে একটি বড় অংশই হলো মদ এবং মাদকদ্রব্য। উদ্ধার হওয়া ২৩৬ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের মাদক ও মদ এই অসাধু কারবারের ব্যাপকতাকে স্পষ্ট করে দেয়। সাধারণত নির্বাচনের আগে ভোটারদের প্রলুব্ধ করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের বিরুদ্ধে এই ধরনের অবৈধ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। কমিশনের কঠোর তল্লাশিতে এই বিপুল পরিমাণ মাদক ধরা পড়ায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ

এই বিপুল অঙ্কের অবৈধ সামগ্রী ও নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মাদক উদ্ধারের ফলে ভোট ক্রয়ের অপচেষ্টা অনেকটা প্রতিহত করা সম্ভব হবে। তবে সীমান্ত এলাকা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনও এই ধরনের তৎপরতা বজায় থাকায় কমিশনকে আরও সজাগ থাকতে হবে। আগামী দফার নির্বাচনগুলোতেও এই কড়া নজরদারি বজায় থাকলে বেআইনি অর্থের প্রভাবমুক্ত একটি সুষ্ঠু জনমত প্রতিফলিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

এক ঝলকে

  • রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রেকর্ড ৫১০ কোটি টাকার অবৈধ সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করল কমিশন।
  • উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে মদ ও মাদকের বাজারমূল্য ২৩৬ কোটি টাকারও বেশি।
  • ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এবার বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে কমিশনের নজরদারি ও তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *