১ মে থেকে রান্নার গ্যাস বুকিংয়ের নিয়মে বড়সড় বদল! দাম বাড়ার আশঙ্কা, জানুন বিস্তারিত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে রান্নার গ্যাসের দামে প্রভাব পড়েছে, যার আঁচ এসে লেগেছে ভারতেও। আগামী ১ মে থেকে রান্নার গ্যাসের বুকিং, ডেলিভারি এবং দামে বেশ কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। এক নজরে দেখে নিন আগামী মাস থেকে কী কী নিয়ম বদলাতে পারে।
দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা
ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের মতো তেল বিপণন সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই ১৪.২ কেজির ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সারা দেশে ৬০ টাকা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম এক মাসেই তিন দফায় বাড়ানো হয়েছে। এপ্রিল ২০২৬-এ মেট্রো শহরগুলিতে এই দাম ১৯৬ টাকা থেকে ২১৮ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। আগামী ১ মে থেকে এই দাম পুনরায় সংশোধিত হতে পারে। তবে দাম বাড়বে না কমবে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
বুকিংয়ের নিয়মে কড়াকড়ি
সঙ্কট মোকাবিলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার গ্যাস বুকিংয়ের নিয়মে বেশ কিছু কড়াকড়ি এনেছে। শহরের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে দুটি বুকিংয়ের মাঝে সময়ের ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রামাঞ্চলে এই ব্যবধান সর্বাধিক ৪৫ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
ওটিপি (OTP) ডেলিভারি বাধ্যতামূলক
ভোক্তাদের জন্য ওটিপি-ভিত্তিক ডেলিভারি ব্যবস্থা এবার স্থায়ী হতে চলেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৯৮% বুকিং অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং প্রায় ৯৪% ডেলিভারি ওটিপি যাচাইকরণের মাধ্যমে গ্রাহকদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
উজ্জ্বলা যোজনায় ই-কেওয়াইসি (eKYC)
প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার (PMUY) গ্রাহকদের জন্য আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক ই-কেওয়াইসি (eKYC) সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাঁরা এখনও এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেননি, তাঁদের দ্রুত তা করতে হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকদের বছরে অন্তত একবার এই eKYC করা প্রয়োজন।
পিএনজি (PNG)-তে রূপান্তরের ওপর জোর
কেন্দ্রীয় সরকার ধীরে ধীরে এলপিজি (LPG) থেকে পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (PNG)-এ রূপান্তরের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পিএনজি ব্যবহারকারীরা নতুন করে এলপিজি সংযোগ নিতে পারবেন না। এমনকি, নির্দিষ্ট এলাকায় পিএনজি পরিষেবা চালু থাকা সত্ত্বেও যদি তিন মাসের মধ্যে গ্রাহকরা পিএনজি-তে স্যুইচ না করেন, তবে তাঁদের এলপিজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশে প্রায় ৫.৪৫ লক্ষ পিএনজি সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং আরও ২.৬২ লক্ষ সংযোগের পরিকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে।
প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছেন স্বাধীন মানব।