রোজ ভ্যালি কাণ্ড: স্বস্তির খবর! ১.৭৩ লক্ষ আমানতকারী পেলেন ১২৭ কোটি টাকা, রিফান্ডে এবার এআই প্রযুক্তি

রোজ ভ্যালি চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের জন্য এল বড়সড় স্বস্তির খবর। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং অ্যাসেট ডিসপোজাল কমিটি (এডিসি)-র যৌথ উদ্যোগে এখনও পর্যন্ত ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৩৫০ জন বিনিয়োগকারীকে মোট ১২৭.৬৯ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত মোট ১৬টি কিস্তিতে এই অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
বাজেয়াপ্ত বিপুল সম্পত্তি ও আগামী পরিকল্পনা
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং ওড়িশার মতো রাজ্যগুলি থেকে আকাশছোঁয়া মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ১৭,৫২০ কোটি টাকা বাজার থেকে তুলেছিল রোজ ভ্যালি গ্রুপ। এর মধ্যে বড় একটি অংশ এখনও আমানতকারীদের ফেরত দেওয়া বাকি। তবে ভুক্তভোগীদের অর্থ ফেরাতে ইডি এখনও পর্যন্ত ১,৫৬৮ কোটি টাকারও বেশি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। গত বছর ২২শে এপ্রিল ভুবনেশ্বর বিশেষ আদালতের নির্দেশ মেনে ৫১৭.৫৪ কোটি টাকার একটি ডিমান্ড ড্রাফট এডিসি-র কাছে জমা দিয়েছে ইডি, যার ফলে আগামী দিনে আমানতকারীদের টাকা পাওয়ার গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।
রিফান্ড প্রক্রিয়ায় এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
অর্থ ফেরত প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ এবং দ্রুততর করতে বড়সড় প্রযুক্তিগত রদবদল আনা হচ্ছে। ২০২৬ সালের ৩১শে মার্চ এই কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-ভিত্তিক সিস্টেম ব্যবহারের জন্য হাইকোর্টের অনুমোদন মিলেছে। এই নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে আমানতকারীদের কেওয়াইসি (KYC) যাচাইকরণ এবং তাঁদের দাবির সত্যতা বিচার করার কাজ অনেক বেশি নির্ভুলভাবে করা সম্ভব হবে। রিফান্ড পোর্টালটি বর্তমানে আপগ্রেড করা হচ্ছে, যার ফলে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়া যাবে।
অন্যান্য চিটফান্ডের তদন্তেও গতি
শুধু রোজ ভ্যালি নয়, সারদা বা আইকোর-এর মতো রাজ্যের অন্যান্য বড় চিটফান্ড কেলেঙ্কারি নিয়েও সক্রিয় তদন্ত চালাচ্ছে ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থার এই কড়া পদক্ষেপ এবং অর্থ ফেরতের নিরন্তর প্রক্রিয়া দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বঞ্চিত থাকা সাধারণ আমানতকারীদের মনে নতুন করে আশার আলো জুগিয়েছে।
প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছেন স্বাধীন মানব দাস।