ক্ষমতা কার হাতে? ভারতের বিচিত্র জাতিগত মানচিত্রে বাংলার ‘উচ্চবর্ণ মডেল’ নিয়ে অবাক করা তথ্য

ভারতীয় রাজনীতিতে উন্নয়ন বা অর্থনীতির গল্পের সমান্তরালে জাতিগত সমীকরণ সবসময়ই একটি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। কার হাতে ক্ষমতার রাশ থাকবে, তা অনেকাংশেই নির্ধারিত হয় সেই রাজ্যের সামাজিক কাঠামো দ্বারা। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীদের কার্যকালের মেয়াদে কোন জাতি বা শ্রেণির আধিপত্য সবচেয়ে বেশি। ‘এক ঝলক’-এর পাতায় দেখে নিন সেই বিস্তারিত পরিসংখ্যান।

সাধারণ শ্রেণির একাধিপত্য: শীর্ষ ৫ রাজ্য

ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে কয়েক দশক ধরে উচ্চবর্ণ বা সাধারণ শ্রেণির নেতারাই রাজত্ব করেছেন। তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের নাম সবার উপরে, যা তথাকথিত প্রগতিশীল রাজনীতির আবহে এক ভিন্ন সামাজিক চিত্র তুলে ধরে।

রাজ্যসাধারণ শ্রেণি (Gen)ওবিসি (OBC)
পশ্চিমবঙ্গ৯৯.৭%০.৩%
অন্ধ্রপ্রদেশ৯৭%৩%
হরিয়ানা৯৫.৪%৪.৬%
ওড়িশা৯২%৮%
পাঞ্জাব৯১.৫%৮.৫%

পরিবর্তনশীল ভারসাম্য: যেখানে ওবিসি ও তফশিলিদের উত্থান

গোবলয় এবং দক্ষিণের কিছু রাজ্যে সামাজিক ন্যায়বিচারের রাজনীতি মুখ্যমন্ত্রীদের মেয়াদে বড়সড় পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে কর্ণাটক এবং বিহারের মতো রাজ্যে অনগ্রসর শ্রেণির আধিপত্য এখন চোখে পড়ার মতো।

অনগ্রসর ও তফশিলিদের জয়জয়কার:

  • কর্ণাটক: এই রাজ্যে ওবিসি মুখ্যমন্ত্রীদের মেয়াদের হার সবথেকে বেশি— ৭৫%
  • তামিলনাড়ু: ওবিসি সম্প্রদায়ের নেতাদের হাতে ক্ষমতা ছিল ৫৪.৯% সময়, যেখানে সাধারণ শ্রেণির দখলে ৪৫.১%।
  • বিহার: ওবিসি নেতাদের আধিপত্য এখানে স্পষ্ট, মেয়াদের হার ৫২.৮%
  • ঝাড়খণ্ড: এই রাজ্যের চিত্রটি সারা দেশের মধ্যে স্বতন্ত্র। এখানে আদিবাসী বা এসটি (ST) শ্রেণির নেতাদের হাতে ক্ষমতার রাশ ছিল ৭৮.৯% সময়।

মিশ্র সমীকরণ: উত্তর প্রদেশ ও মহারাষ্ট্র

রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রাজ্যগুলোতে ক্ষমতা ভাগাভাগি হয়েছে নানা স্তরে।

উত্তর প্রদেশ: ভারতের সবচেয়ে বড় এই রাজ্যে সাধারণ শ্রেণির দখলে মেয়াদের ৬৩.১% থাকলেও ওবিসি (২৬.৮%) এবং এসসি (১০.২%) সম্প্রদায়ের মুখ্যমন্ত্রীরা বারবার নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করেছেন।

মহারাষ্ট্র ও রাজস্থান: এই দুই রাজ্যে উচ্চবর্ণের আধিপত্য (প্রায় ৭৪%) বজায় থাকলেও ওবিসি নেতাদের কার্যকাল ২০ শতাংশের গণ্ডি পার করেছে, যা ক্রমাগত বাড়ছে।

বিশ্লেষকের নজর

এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে ভারতের উত্তর ও পূর্ব দিকের রাজ্যগুলোতে (বিশেষ করে বাংলা ও ওড়িশা) রাজনৈতিক নেতৃত্বে সামাজিক রূপান্তর বেশ ধীরগতিতে হয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে ওবিসি এবং আদিবাসী আন্দোলনের জেরে ক্ষমতার অলিন্দে প্রান্তিক মানুষের প্রবেশ ঘটেছে অনেক বেশি। ২০২৬-এর এই নির্বাচনী আবহে এই জাতিগত পরিসংখ্যান কি নতুন কোনো সমীকরণের জন্ম দেবে? নজর থাকবে ‘এক ঝলক’-এর পাতায়।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *