‘একটি ভোট পেলেও আমিই জিতব’, ভবানীপুরে ৯ কিমি পদযাত্রায় আত্মবিশ্বাসী মমতা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা চূড়ান্ত দফার প্রচারের শেষ লগ্নে দক্ষিণ কলকাতার রাজপথ দেখল এক হাইভোল্টেজ দ্বৈরথ। সোমবার বিকেলে নিজের পুরনো দুর্গ ভবানীপুরে বিশাল রোড-শোর মাধ্যমে শক্তি প্রদর্শন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাদবপুর থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার পথ পরিক্রমা করে তিনি বার্তা দিলেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়েও তাঁর জয় রদ করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, নন্দীগ্রামের স্মৃতি উসকে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীও দাবি করেছেন, ভবানীপুরের মানুষ এবার মমতাকে প্রত্যাখ্যান করবে।
৯ কিলোমিটারের দীর্ঘ পথ ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান
টানা চতুর্থবার নবান্ন দখলের লক্ষ্যে এদিন মরণ-বাঁচন লড়াইয়ে নামেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাদবপুরের সুকান্ত সেতু থেকে শুরু হওয়া এই পদযাত্রা রাসবিহারী ও বালিগঞ্জ হয়ে যখন ভবানীপুরে পৌঁছায়, তখন কয়েক হাজার মানুষের ভিড়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এলাকা। দীর্ঘ পথ হাঁটলেও ক্লান্তিহীন মমতা কখনও হাত নেড়ে সমর্থকদের অভিবাদন জানান, আবার কখনও ভিড় এড়াতে চড়ে বসেন দু-চাকার যানের পেছনে। রোড-শোর শেষ লগ্নে তাঁর সঙ্গে যোগ দেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, যা এই লড়াইয়ে এক নতুন রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে।
ভোটার তালিকা বিতর্ক ও মমতার গর্জন
এবারের নির্বাচনে ভবানীপুরের প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাঁর এলাকার ভোটার সংখ্যা কমানো হয়েছে। তিনি জানান:
- প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪৪ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল।
- চূড়ান্ত তালিকা থেকে আরও ২ হাজার নাম বাদ গিয়েছে এবং ১৪ হাজার নাম এখনও বিচারাধীন।
- এই ‘ষড়যন্ত্রের’ উল্লেখ করে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “ভোটাররা কোথায়? কিন্তু ভবানীপুর থেকে একটি ভোট পেলেও আমি জিতব।”
শুভেন্দুর পাল্টি: ‘আবারও হারাবো’
২০২১-এ নন্দীগ্রামে মমতাকে পরাজিত করার রেকর্ড মনে করিয়ে দিয়ে এদিন ভবানীপুরে পাল্টা রোড-শো করেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় ২ কিলোমিটারের এই মিছিলে গেরুয়া সমর্থকদের ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানে মুখরিত ছিল রাজপথ। শুভেন্দুর সাফ কথা, “২০২১ সালে আমি তাঁকে হারিয়েছিলাম, এবারও হারাবো। ভবানীপুরের মানুষ এবার বদল চাইছে।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেওয়া ‘ভবানীপুর জিতলে বাংলা জয় নিশ্চিত’—এই ফর্মুলাকেই হাতিয়ার করেছেন তিনি।
ভবানীপুরের গুরুত্ব ও চূড়ান্ত পরীক্ষা
২০১১ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের ধারা বজায় রাখা এই কেন্দ্রটি এবার এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। একদিকে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভরসা, অন্যদিকে বিজেপির মেরুকরণ ও এসআইআর বিতর্ক—সব মিলিয়ে ভবানীপুর এখন বাংলার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
আগামীকাল ২৯ এপ্রিল ১৪২টি আসনের সঙ্গে ভবানীপুরেও ভোটগ্রহণ। আর আগামী ৪ মে জানা যাবে, ভবানীপুরের গলি-ঘুঁজি শেষ পর্যন্ত কার দিকে রায় দিল।