মাঠে কোহলি-গম্ভীরের সতীর্থ, রাস্তায় এনগিডির ‘ত্রাতা’! দিল্লির যানজট রুখে ১১ মিনিটে প্রাণ বাঁচালেন এসিপি সঞ্জয়

মাঠে ফিল্ডিং করার সময় মাথায় গুরুতর চোট পেয়ে জীবন সংকটে পড়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার লুঙ্গি এনগিডি। পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে খেলা চলাকালীন ক্যাচ ধরতে গিয়ে সরাসরি মাটিতে আছড়ে পড়েন তিনি। চোটের ভয়াবহতা দেখে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রয়োজন পড়ে, কিন্তু সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে দিল্লির যানজট পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো ছিল প্রায় আসাম্ভব এক চ্যালেঞ্জ।
অসাধ্য সাধন ও সঞ্জয় সিংয়ের বুদ্ধিমত্তা
দিল্লি পুলিশের এসিপি সঞ্জয় সিং, যিনি একসময় বিরাট কোহলি ও গৌতম গম্ভীরের সতীর্থ হিসেবে ক্রিকেট খেলতেন, তাঁর উপস্থিত বুদ্ধিতেই এই অসাধ্য সাধন সম্ভব হয়েছে। অ্যাম্বুল্যান্স চালক গুগল ম্যাপের পরামর্শ দিলেও অভিজ্ঞ সঞ্জয় জানতেন যে ম্যাপের দেখানো সংক্ষিপ্ত রাস্তাটি জটমুক্ত থাকবে না। নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা করে তিনি ম্যাপের পথ এড়িয়ে তুলনামূলক দীর্ঘ কিন্তু ফাঁকা রাস্তা বেছে নেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন।
সবুজ করিডর ও বর্তমান অবস্থা
কন্ট্রোল রুমের সহায়তায় তৎক্ষণাৎ ৬০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে একটি ‘সবুজ করিডর’ তৈরি করা হয়। ফলে মাত্র ১১ মিনিটের মধ্যে মাঠ থেকে রাজিন্দর নগরের হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হয়। সময়মতো স্ক্যান ও চিকিৎসার পর এনগিডি এখন বিপদমুক্ত থাকলেও সতর্কতা হিসেবে আগামী দুটি ম্যাচ থেকে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। ক্রিকেট মাঠের প্রাক্তন সতীর্থই আজ পুলিশের পোশাকে এনগিডির কাছে জীবনদাতা হিসেবে আবির্ভূত হলেন।
এক ঝলকে
- ক্যাচ ধরতে গিয়ে মাথায় ও কাঁধে গুরুতর চোট পান প্রোটিয়া পেসার লুঙ্গি এনগিডি।
- ট্রাফিক জট এড়াতে গুগল ম্যাপ অগ্রাহ্য করে এসিপি সঞ্জয় সিংয়ের বুদ্ধিতে বিকল্প পথে অ্যাম্বুল্যান্স পাঠানো হয়।
- ৬০ জন পুলিশ কর্মীর সহযোগিতায় তৈরি করা সবুজ করিডরের মাধ্যমে মাত্র ১১ মিনিটে হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
- এনগিডি বর্তমানে সুস্থ থাকলেও চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে পরবর্তী দুটি ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকতে হবে।