হামে মৃত্যুমিছিল বাংলাদেশে: ২৫০ প্রাণহানির নেপথ্যে কি ইউনূস সরকারের গাফিলতি? শোকাতুর জনপদ

টিকাকরণ কর্মসূচিতে এক সময় বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ানো বাংলাদেশে এখন হামের ভয়াবহ ছোবলে বিপর্যস্ত জনস্বাস্থ্য। গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৯১ শতাংশই ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু। গত দুই দশকের মধ্যে হামের এমন প্রাণঘাতী রূপ আর দেখেনি দেশবাসী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে, যা পরিস্থিতিকে একটি জাতীয় মহামারীর দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সরকারের দায় ও আইনি পদক্ষেপ
বর্তমান স্বাস্থ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চরম অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করা হয়েছে। বিশেষ করে টিকাকরণ কর্মসূচিকে রাষ্ট্রীয় তদারকি থেকে সরিয়ে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের একটি বিতর্কিত প্রচেষ্টাকে এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ তাঁর সরকারের একাধিক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের নেওয়া ভুল সিদ্ধান্তের কারণে টিকার মজুদে টান পড়েছিল, যা শিশুদের সুরক্ষাকবচকে দুর্বল করে দিয়েছে।
টিকাকরণ ব্যাহত হওয়ার নেপথ্য কারণ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সাধারণত প্রতি চার বছর অন্তর বিশেষ হাম টিকাকরণ অভিযান পরিচালিত হলেও ২০২০ সালের পর তা আর নিয়মিত হয়নি। একদিকে কোভিড অতিমারি এবং অন্যদিকে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে মাঠপর্যায়ে টিকাকরণের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে ১২ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে এই হার নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৯.৬ শতাংশে, যা আগের বছরগুলোতে ছিল প্রায় ৯০ শতাংশের উপরে। উচ্চ আদালত ইতিমধ্যে এই ব্যর্থতাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সরকারকে রুল জারি করেছে এবং দ্রুত টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
এক ঝলকে
- বাংলাদেশে হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই শিশু।
- দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টি জেলাতেই এই সংক্রমণ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।
- টিকার মজুদ সংকট ও অব্যবস্থাপনার দায়ে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার দাবি উঠেছে।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নীতিনির্ধারণী ভুলের কারণে টিকাকরণের হার ৮৯-১০৩ শতাংশ থেকে কমে ৫৯.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।