ভোট না দিলে কি সত্যিই বাদ যাবে নাম? সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা দূর করল নির্বাচন কমিশন!

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে একটি গুজব সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রবল উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। শোনা যাচ্ছে যে, এবার নির্বাচনে ভোট না দিলে ভোটার তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হবে। এই রটনার জেরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটারদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে এবং বহু পরিযায়ী শ্রমিকও তড়িঘড়ি নিজেদের এলাকায় ফিরে আসছেন। তবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, এই আশঙ্কার কোনও আইনি ভিত্তি নেই।
ভোট দেওয়া নাগরিকের ব্যক্তিগত অধিকার
নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট গাইডলাইন বলছে, ভোট দেওয়া ভারতের প্রতিটি নাগরিকের একটি গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু এটি বাধ্যতামূলক কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা নয়। কোনও ব্যক্তি ভোট দেবেন কি দেবেন না, তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। শুধুমাত্র ভোটদানে বিরত থাকার কারণে কোনওভাবেই ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম মুছে ফেলার এখতিয়ার কমিশনের নেই। সুতরাং, এবার ভোট না দিলে নাম কাটা যাবে—এই তথ্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং একটি গুজব মাত্র।
নাম বাতিলের প্রকৃত কারণ
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ কিছু নির্দিষ্ট কারণের ওপর নির্ভরশীল। সাধারণত কোনও ভোটারের মৃত্যু হলে, স্থায়ীভাবে অন্য কোথাও চলে গেলে কিংবা নির্বাচন কমিশনের বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়ার সময় যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অস্তিত্ব বা তথ্যের সত্যতা খুঁজে পাওয়া না যায়, তবেই আইনত নাম বাতিল করা হয়। এছাড়া অন্য কোনও অনৈতিক উপায়ে বা ভোট না দেওয়ার কারণে নাম কাটার কোনও সংস্থান ভারতের নির্বাচনি আইনে নেই।
আগামীকাল পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সাতটি জেলার মোট ১৪২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে এই দফায়, যার মধ্যে রয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর। ভোটারদের অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে নির্ভয়ে এবং সচেতনভাবে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এক ঝলকে
- ভোট না দিলে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা যাবে—এই খবরটি একটি গুজব।
- ভোট দেওয়া বা না দেওয়া নাগরিকের ব্যক্তিগত অধিকার, এতে ভোটার কার্ড বাতিল হয় না।
- কেবল মৃত্যু, স্থানান্তর বা তথ্য যাচাইয়ে ব্যর্থ হলে নিয়ম মেনে নাম বাদ পড়তে পারে।
- দ্বিতীয় দফায় আগামীকাল ভবানীপুরসহ মোট ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে।