ইভিএম-এর যুগেও কি ফেরে ‘ভূত ভোটার’? বুথ দখল ও রিগিং রুখতে কতটা প্রস্তুত কমিশন?

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে ‘ভোট রিগিং’ এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েক দশক ধরে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হলেও নির্বাচনের সময় বুথ জ্যামিং, ছাপ্পা ভোট এবং ফলস ভোটিংয়ের মতো অভিযোগগুলো পিছু ছাড়েনি। ১৯৭২ সালের নির্বাচনে প্রথম এই রিগিংয়ের সংস্কৃতির সূচনা বলে মনে করা হয়, যা পরবর্তী তিন দশকে বাম জমানায় ‘সায়েন্টিফিক রিগিং’-এর তকমা পেয়েছিল। বর্তমানে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেও বিরোধীরা একই অভিযোগ তুললেও নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কারচুপির বিবর্তন ও কৌশল
অতীতে ব্যালট পেপারের যুগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া, ভুয়ো ভোটার ঢোকানো কিংবা ব্যালট বাক্স পুকুরে ফেলে দেওয়ার মতো চরম অরাজকতা দেখা যেত। প্রযুক্তির বদলে ইভিএম এলেও পোলিং এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়া, ভোটারদের ভয় দেখানো এবং বুথ দখলের মতো কৌশলের প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি। মূলত প্রশাসনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেই বছরের পর বছর ধরে নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর এই ধারা চলে আসছে।
গণতন্ত্রের সুরক্ষা ও বর্তমান পরিস্থিতি
ভোটের দিন সকালে ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দেওয়া বা ‘ভূত ভোটার’ সাজিয়ে অন্যের ভোট দিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা গণতন্ত্রের ভিতকে দুর্বল করে তোলে। তবে ২০২৬-এর নির্বাচনে এই পরিস্থিতি বদলাতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। কাল বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের আগে রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো ধরনের কারচুপি বা অব্যবস্থা বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছে কমিশন।
এক ঝলকে
- ১৯৭২ সাল থেকে শুরু হওয়া রিগিং কালচার বর্তমানে বাংলার ভোটে এক গভীর সংকটে পরিণত হয়েছে।
- ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে বুথ দখল—কারচুপির বিভিন্ন কৌশল বছরের পর বছর ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে।
- ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে রিগিং ঠেকাতে নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে।
- অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।